যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব এবার নিজেদের ওপরেই পড়তে পারে— এমনই জানাল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) সর্বশেষ রিপোর্ট। এতে বলা হয়েছে, ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে উচ্চ শুল্ক বসিয়েছে, তা আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমানো থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে তুলবে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন জিডিপি ৪০-৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমতে পারে। একইসঙ্গে ইনপুট কস্ট বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হবে। ইতোমধ্যেই দুর্বল ডলার আর শুল্কের ‘পাশ-থ্রু ইফেক্ট’-এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির নতুন চাপ দেখা দিতে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি আঘাত আসছে আমদানি-নির্ভর খাতগুলোতে— বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইল ও কনজিউমার ডিউরেবলস সেক্টরে। এসবিআইয়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকবেই।

আমেরিকা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় রপ্তানির ওপর শুল্ক বসিয়েছে। এর মধ্যে শ্রমনির্ভর খাত যেমন টেক্সটাইলস, রত্ন ও গয়না খাত মাঝারি চাপের মুখে পড়বে। তবে ওষুধ, স্মার্টফোন আর স্টিল রপ্তানি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকবে— কারণ এগুলোতে ছাড়, বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।

রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, যদি পুরো ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়ে, তাহলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত উল্টো ঘাটতিতে পরিণত হতে পারে। তবে এসবিআইয়ের আশা, নতুন বাণিজ্য আলোচনা দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং রপ্তানি আবারও বাড়বে।

শুধু ভারত নয়, তুলনা টেনে রিপোর্টে বলা হয়— ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ৫০ শতাংশ হলেও চীনের পণ্যে ৩০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১৯ শতাংশ এবং জাপানি পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

রিপোর্ট আরও জানায়, টেক্সটাইল খাতে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বাজার শেয়ার ক্রমেই বেড়েছে, যেখানে চীনের অংশীদারিত্ব কমেছে। একইভাবে রত্ন ও গয়নার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের সবচেয়ে বড় বাজার— বছরে ২৮.৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশই যায় আমেরিকায়। নতুন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে ওঠায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Walton Ads