আবারও আলোচনায় এলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি দাবি করেছেন, তার হস্তক্ষেপ না হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধ বেধে যেত। ট্রাম্পের ভাষায়, সংঘর্ষের সময় দুই দেশের মধ্যে অন্তত সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। জুলাই মাসে অবশ্য তিনি বলেছিলেন পাঁচটি বিমান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমি অনেক যুদ্ধ থামিয়েছি। সবচেয়ে বড় একটা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে... ওই যুদ্ধটা পরবর্তী ধাপে গিয়ে পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিত। তখন পর্যন্ত অন্তত ৭টা জেট ভূপাতিত হয়ে গেছে, পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। আমি তখন বলেছিলাম— তোমরা যদি লড়াই চালিয়ে যাও, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য হবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে হবে। এরপরই তারা জানাল, আর যুদ্ধ নেই।”
ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ভারত-পাকিস্তান সংঘাত প্রসঙ্গ তুলেছেন। জুলাইয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, সংঘাত থামার আগে পাঁচটি যুদ্ধবিমান নামানো হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি কোন দেশের বিমান নামানো হয়েছিল বা সেগুলো কী ধরনের যুদ্ধবিমান ছিল।
অন্যদিকে, ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, ‘অপারেশন সিন্ধূর’-এ ভারত অন্তত পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান নামিয়েছে, সঙ্গে একটি বড় নজরদারি বিমান। ১০ আগস্ট দিল্লিতে এয়ার চিফ মার্শাল মেমোরিয়াল লেকচারে তিনি বলেন, “আমাদের নিশ্চিত কিলস অন্তত পাঁচটি ফাইটার জেট এবং একটি বড় বিমান। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি ELINT বা AEW&C বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে। এটি আসলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সারফেস-টু-এয়ার কিল।”
তিনি আরও জানান, অভিযানে পাকিস্তানের মুরিদ ও চকলালা কমান্ড সেন্টার, ছয়টি রাডার, লাহোর ও ওকারার দুটি SAGW সিস্টেম, আর তিনটি হ্যাঙ্গার টার্গেট করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সুক্কুর UAV হ্যাঙ্গার, ভোলারি হ্যাঙ্গার এবং জেকবাবাদ F-16 হ্যাঙ্গার।
প্রথমবারের মতো কোনো শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পাকিস্তানি বিমান ধ্বংসের সংখ্যা প্রকাশ করলেন। এয়ার চিফ মার্শাল সিং অভিযানের সফলতার কৃতিত্ব দেন রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে। তার ভাষায়, “রাজনৈতিক সদিচ্ছা স্পষ্ট ছিল, আমাদের উপর কোনো সীমাবদ্ধতা চাপানো হয়নি। আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিভাবে অভিযান চালাবো। তিন বাহিনীর সমন্বয় ছিল দুর্দান্ত।”
ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিন্ধূর’ শুরু করে, ২২ এপ্রিল পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার জবাবে। অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করে, যেখানে ১০০-র বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তানের পাল্টা হামলাও ভারত প্রতিহত করে এবং তাদের একাধিক বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানে।
তবুও ট্রাম্প নিজের দাবি থেকে সরেননি। তিনি বারবারই জোর দিয়ে বলছেন, তার চাপ না থাকলে ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিত।
