পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে চাইলে মার্কিন নাগরিকদের ১০ হাজার ডলার জামানত বা ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মালিসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর একই ধরনের শর্ত আরোপের প্রতিক্রিয়ায় মালি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
মালিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার (১০ অক্টোবর) এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, “ওয়াশিংটনের ‘আমেরিকার সীমান্ত রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জোরদার করার জন্য এই ফি চালু করা হয়েছে।”
এরপর মালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার (১২ অক্টোবর) জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই বন্ড আরোপ করেছে। তাই আমরা মার্কিন নাগরিকদের জন্য একই ধরনের ভিসা কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
নতুন এই ভিসা নীতি এসেছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই। জুলাই মাসে মার্কিন কর্মকর্তারা মালি সফর করেছিলেন সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করতে—বিশেষ করে মালির সোনা ও লিথিয়াম খনি নিয়ে।
২০২১ সালে মালিতে সেনা প্রধান জেনারেল আসিমি গোইতা ক্ষমতা দখল করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। জিহাদিদের বিদ্রোহ দমন করতে তিনি রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেন, ফরাসি সেনাদের দেশ থেকে বের করে দেন এবং রুশ ভাড়াটে যোদ্ধা সংগঠন ওয়াগনার গ্রুপ আনার অনুমতি দেন। বর্তমানে সেই বাহিনীকে ‘আফ্রিকা কর্পস’ নামে নতুন কাঠামোয় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
শুধু মালি নয়, পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও মার্কিন অভিবাসী নীতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গত সপ্তাহে বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী প্রত্যাবাসন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, জবাবে ওয়াশিংটন সেখানে ভিসা ইস্যু স্থগিত করে।
বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ত্রাওরে প্রশ্ন তোলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কি ‘ব্ল্যাকমেইল’? আমরা তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের গ্রহণে রাজি না হওয়ায় কি তারা আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে?”
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার জন্য আফ্রিকান দেশগুলোকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
