আবারও উত্তপ্ত হলো ক্যারিবীয় সাগর! ভেনেজুয়েলার উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আরেকটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে। এতে ৬ জন ‘মাদক সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, নৌকাটি মাদক পাচারে জড়িত ছিল এবং এটি ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ বহন করছিল। খবর বিবিসি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম হামলা। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত এই নৌকাগুলোর সঙ্গে মাদক পাচারের সরাসরি প্রমাণ দিতে পারেনি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা—দুই দেশই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে—এই নৌকাটি একটি পরিচিত চোরাচালান রুট ব্যবহার করছিল এবং এটি অবৈধ মাদক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।”
পোস্টের সঙ্গে ট্রাম্প একটি ড্রোন ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় দ্রুতগামী একটি নৌকা বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
তবে ট্রাম্প নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা বা তারা কোন মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত—সেসব তথ্য প্রকাশ করেননি।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে একটি “অঘোষিত যুদ্ধ” শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই অভিযানের লক্ষ্য মাদক পাচার রোধ, যা তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত এ ধরনের নৌকা আটক করা হয় এবং ক্রুদের গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে দেখা যাচ্ছে, পুরো নৌকাটিই বিস্ফোরণে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের কিছু ঘটনা ঘটে ঠিকই, তবে যেখানে এসব হামলা হচ্ছে—সেই অঞ্চলকে মাদক পাচারের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
ফলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর সামরিক চাপ প্রয়োগের কৌশল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো সরকারের বৈধতা স্বীকার করে না। বরং তাঁকে ‘কার্টেল অব দ্য সানস’ নামের এক মাদকচক্রের প্রধান বলে অভিযুক্ত করেছে। মাদুরোর গ্রেপ্তারে ঘোষণা করা হয়েছে ৫ কোটি ডলারের পুরস্কার। তবে মাদুরো এসব অভিযোগকে ‘আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
