মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বুধবার স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সে ৪,২০০ ডলার অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্পট গোল্ড বুধবার গ্রিনউইচ মান সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ১.৫% বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,২০৩.৭৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। এর আগে এক পর্যায়ে দাম ৪,২১৭.৯৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১.৪% বেড়ে ৪,২২০.২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
চলতি বছর স্বর্ণের দাম ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮% বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ হলো— মার্কিন সুদহার কমার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বাড়তি স্বর্ণ ক্রয়, ডলারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।
অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, “মার্কিন সরকারে চলমান অচলাবস্থা, ফেড কর্মকর্তাদের নরম মন্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে পারে। মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ৫,০০০ ডলার পৌঁছানো অসম্ভব নয়।”
বুধবার ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল মন্তব্য করার পর ডলারের মান কমে যায়, যা বাজারে আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমানোর প্রত্যাশা জোরদার করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চীনের সঙ্গে কিছু বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় বিবেচনা করছে। এছাড়া সরকারি অচলাবস্থার কারণে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকেরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বিশ্লেষক সোনি কুমারি বলেন, “স্বর্ণ সাধারণত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয়। এই বুলিশ প্রবণতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।”
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেখা যায়, স্বর্ণের রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স (আরএসআই) ৮৫-এ দাঁড়িয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— বাজার বর্তমানে ‘ওভারবট’ অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, রুপার দাম ২.৩% বেড়ে প্রতি আউন্সে ৫২.৬৪ ডলার, প্লাটিনাম ১.২% বেড়ে ১,৬৫৭.০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৭% বেড়ে ১,৫৫১.১৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
