মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইএকে ‘গোপন মিশন’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প বলেন, “আমি দুটি কারণে অনুমতি দিয়েছি—এক, ভেনেজুয়েলা তাদের কারাগার খালি করে বন্দিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে; দুই, দেশটি সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বড় কেন্দ্র। এবার আমরা স্থলপথও বন্ধ করব।”
বিবিসি জানিয়েছে, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন প্রকাশ্যে স্বীকারোক্তি অভূতপূর্ব। সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান থাকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে প্রশ্ন উঠেছে—সিআইএর লক্ষ্য কি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা? সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “এটা এমন প্রশ্ন যার উত্তর দেওয়াই হাস্যকর।”
একই দিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মাদুরো বলেন, “না হবে কোনো সরকার পরিবর্তন, না হবে কোনো সিআইএ-নিয়ন্ত্রিত অভ্যুত্থান। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া—এসব ব্যর্থ যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বলছি, আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।”
বিবিসি আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে মার্কিন বাহিনী সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় অন্তত পাঁচটি হামলা চালিয়েছে, যেখানে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এসব অভিযানকে “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” বলেছেন।
হোয়াইট হাউজে বক্তৃতায় ট্রাম্প জানান, “আমরা এই অঞ্চলে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেব।”
ভেনেজুয়েলা সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে “অঘোষিত যুদ্ধ” শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ঘোষণা দিয়েছেন, যে কোনো মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে সেনা ও বেসামরিক বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
গত বছরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকেই মাদুরোর বৈধতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে “অবৈধ প্রেসিডেন্ট” বলে দাবি করে, এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে মাদকচক্র পরিচালনার অভিযোগ এনে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। মাদুরো পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিযোগকে “আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র” বলে আখ্যা দেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্পের অনুমোদনের ফলে এখন সিআইএ চাইলে একতরফাভাবে বা বৃহত্তর মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালাতে পারবে। তবে সংস্থাটি ইতিমধ্যে এমন কোনো অভিযান পরিকল্পনা করছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ক্যারিবীয় সাগরে আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন ও কয়েকটি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন—যার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে “মাদক পাচার রোধের অভিযান” হিসেবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ভেনেজুয়েলার ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার ঝুঁকি বেড়েছে।
এদিকে, মাদুরো রাজধানী কারাকাসের পেতারে এবং মিরান্দা রাজ্যে সেনা মহড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের সেনা, পুলিশ ও জনগণকে তেলসমৃদ্ধ মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবাজ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। সিআইএ ব্যবহার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক মোতায়েন সরাসরি আগ্রাসনের ইঙ্গিত।”
