বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন অবশেষে বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে একমত হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই প্রাথমিক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকে।
বেসেন্ট মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এগোনো সম্ভব হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, চুক্তিতে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র শাখা নিয়ে ‘চূড়ান্ত সমঝোতা’ হয়েছে এবং চীন তাদের বিরল খনিজ রপ্তানির কড়াকড়ি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখবে।
ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি আপাতত স্থগিত
বেসেন্ট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। একই সঙ্গে চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি শুরু করবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে বেসেন্ট চীনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক কাঠামোয় পৌঁছেছি যা দুই দেশের নেতাদের আলোচনায় সহায়ক হবে। ফলে নতুন করে শুল্ক আরোপের আশঙ্কা এখনই নেই।”
বিরল খনিজ রপ্তানি ও মার্কিন চাপ
চীন বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে, যা স্মার্টফোন, সৌর প্যানেল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই সরবরাহ একটি বড় কৌশলগত ইস্যু।
ট্রাম্প এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চীন যদি খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি না তুলে নেয়, তবে নভেম্বর থেকেই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে।
বেসেন্ট বলেন, “চীন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং রপ্তানির সীমাবদ্ধতা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখবে।”
সয়াবিন বাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিন আমদানিকারক দেশ চীন। কিন্তু আগস্টে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সব অর্ডার স্থগিত করেছিল বেইজিং, যার ফলে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন মার্কিন কৃষকরা।
বেসেন্ট নিজেও একজন সয়াবিনচাষি। তিনি বলেন, “আমি কৃষকদের কষ্ট বুঝি। আমরা তাদের উদ্বেগের সমাধান করেছি।” তিনি ইঙ্গিত দেন, চীন শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি আবার শুরু করবে।
“আমি বিশ্বাস করি, চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হলে আমাদের কৃষকেরা এই মৌসুম এবং আগামী বছরগুলোতে স্বস্তি পাবে,” যোগ করেন তিনি।
টিকটক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলে বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন টিকটকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও আলোচনার স্বার্থে চারবার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়েছে। সর্বশেষ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে যাতে এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে সমাধান পাওয়া যায়।
এই চুক্তি কার্যকর হলে তা শুধু টিকটকের ভবিষ্যৎই নয়, বরং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
