যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার আকাশপথকে 'সম্পূর্ণভাবে বন্ধ' বলে বিবেচনা করা উচিত। নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন, যদিও বিস্তারিত কিছু বলেননি।
তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, "সমস্ত এয়ারলাইন্স, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানব পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে বলছি, অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার উপরের এবং আশেপাশের আকাশসীমাকে পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।"
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা নিজেরাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা জানান না যে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক অভিযান চালাচ্ছে কিনা। পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউজ উভয়ই এই বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার সরকার স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে দেশটির সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে 'ঔপনিবেশিক হুমকি' এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, "মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পোস্ট একটি শত্রুতাপূর্ণ, একতরফা এবং স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।"
ট্রাম্প সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশাল বহর মোতায়েন করেছেন। তাঁর দাবি, মাদক পাচারের নৌকাগুলো ভেনেজুয়েলার সাথে সম্পর্কিত। তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদকচক্র পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন, যদিও মাদুরো অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কোনো যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরো পাল্টা অভিযোগ এনেছেন যে, ওয়াশিংটন তাঁর সরকারকে উৎখাত করে ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন উপনিবেশ বানাতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, "ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও দেশটির সেনাবাহিনী এই ধরনের যেকোনো প্রচেষ্টা বানচাল করে দেবে।"
গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনাধীন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদুরোকে উৎখাতের চেষ্টা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন এবং ভেনেজুয়েলার উপকূলে সন্দেহভাজন মাদক নৌযানগুলোতে হামলা চালানো। ট্রাম্প দেশটিতে গোপন সিআইএ অভিযানেরও অনুমোদন দিয়েছেন বলে খবর।
ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'ঔপনিবেশিক লক্ষ্য'র অভিযোগ আনে। রয়টার্সের সাথে কথা বলার সময় কারাকাসের বাসিন্দারা ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন।
রান্নার সহকারী ম্যানুয়েল রোমেরো বলেন, "আমি মনে করি এটা একদম অন্যায়। কারণ মানুষকে কাজে যেতে, ব্যবসা করতে, তাদের পরিবারের সাথে দেখা করতে ভ্রমণ করতে হয়। আর আমরা ভেনেজুয়েলানরা এই পরিস্থিতির জন্য মোটেও দায়ী নই।"
আইনজীবী কারমেন ক্যাস্টিলো তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ছুটিতে অনেক মানুষ ভেনেজুয়েলার বাইরে তাদের পরিবারের সাথে দেখা করতে পারবে না। তাঁর কথায়, "আমরা যেন এখানে, কারাকাসে, বন্দী হয়ে পড়লাম।"
ভেনেজুয়েলার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই 'অনৈতিক আগ্রাসন' প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মিত্র ইরানও ট্রাম্পের ঘোষণাকে 'আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি' বলে নিন্দা জানিয়েছে।
