যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আর ট্রাম্পের সরাসরি হুমকি—কিছুই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশ ছাড়াতে পারেনি। কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর গুজব ছড়াচ্ছিল, তিনি নাকি ‘নিখোঁজ’, হয়তো ওয়াশিংটনের চাপের মুখে নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে গেছেন। কিন্তু সব ধারণা উড়িয়ে রবিবার ৩০ নভেম্বর কারাকাসে প্রকাশ্যে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দেন মাদুরো।

রাজধানীতে আয়োজিত বার্ষিক কফি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মাদুরো গুজবের পুরো নাটকের ইতি টানেন। গত বুধবারের পর এটাই ছিল তার প্রথম জনসম্মুখে উপস্থিতি।

এর আগে টেলিগ্রামে গাড়ি চালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করার পর তিনি আর কোথাও দেখা না দেওয়ায় শঙ্কা বাড়ে—মাদুরো কি ট্রাম্পের হুমকিতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন? অবশেষে রবিবারের অনুষ্ঠানেই সেই রহস্য পরিষ্কার হয়।

অনুষ্ঠানে বিচারকের ভূমিকায় নানান স্বাদের কফি চেখে দেখেন মাদুরো এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় সংক্ষেপে দেশের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন এবং শেষে স্লোগান দেন—
“ভেনেজুয়েলা অদম্য, অচ্ছেদ্য, অপরাজেয়!”

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় সাগরে ১৫টি যুদ্ধজাহাজ ও প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি পুরোপুরি মাদকবিরোধী অভিযান। তবে কারাকাসের দাবি—এটি আসলে মাদুরো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনারই অংশ।

এ সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে তিনি মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বিমানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন,
“হ্যাঁ, কথা হয়েছে। ভালো বা খারাপ—কিছু বলছি না, শুধু বলছি এটা একটা ফোনালাপ ছিল।”

তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপটি হয়েছে মাসের শুরুতে। তবে মাদুরো সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে ওপেকের প্রধানকে লেখা এক চিঠিতে মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বল প্রয়োগ করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ দখল করতে চায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভান গিল পিন্তো চিঠিটি প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি—তাদের অভিযান মূলত মাদকবিরোধী নিরাপত্তা উদ্যোগ, পাশাপাশি ‘মাদুরো শাসনের প্রাণঘাতী হুমকি থেকে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা’ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

 

Walton Ads