সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই আরও শক্তিশালী করতে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বিশেষ সামরিক মহড়া "সাহান্দ ২০২৫" শুরু হয়েছে ইরানে। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের শাবেস্তার কাউন্টিতে শুরু হওয়া এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে এসসিও সদস্য দেশগুলোর সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ ইউনিট।
মহড়াটি গত ১ ডিসেম্বর শুরু হয়ে এই মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত চলবে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর স্থলবাহিনী এই যৌথ মহড়ার আয়োজন করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বাহিনী সন্ত্রাসবাদ দমনের বিভিন্ন কৌশল ও আধুনিক পদ্ধতিতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেবে।
এই মহড়ার মূল আয়োজন করছে আইআরজিসির অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট ইমাম জামান (আ.) মেকানাইজড ব্রিগেড। এসসিও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই বার্ষিক যৌথ সামরিক অনুশীলনের মূল লক্ষ্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানো, প্রতিরক্ষা জোটকে আরও শক্তিশালী করা এবং যেকোনো সন্ত্রাসী হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকরী প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সামর্থ্য বৃদ্ধি করা।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর জনসংযোগ ও প্রচার শাখার ডেপুটি কর্নেল শাহরাম আসকারিয়ান জানান, "দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ, আইআরজিসি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এসসিও'র সন্ত্রাসবাদ দমন কমিটির সমন্বিত নির্দেশনায় এই মহড়াটি আয়োজন করা হয়েছে। এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।"
তিনি ইরানের সন্ত্রাসবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, "সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইরান সবসময়ই সামনের সারিতে থেকেছে। এ পর্যন্ত নারী ও শিশু সহ ১৭ হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সেজন্য সন্ত্রাসবিরোধী যেকোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগে ইরান অত্যন্ত গুরুত্ব ও দায়িত্বের সঙ্গে অংশ নেয়।"
এসসিও'র মূল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, ইরান এবং পাকিস্তান।
ইরানের "সাহান্দ ২০২৫" মহড়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বাহিনী বাস্তবসম্মত যুদ্ধ কৌশল, অভিযান পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলায় তাদের আরও দক্ষ করে তুলবে।
