মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে সৌদি আরবের একটি শক্ত বার্তা। দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ইরানের ওপর কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান হলে তারা নিজেদের আকাশপথ কিংবা ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না আমেরিকাকে।
সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত ইরান সরকারের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি স্পষ্ট: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ বা ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীর জন্য খোলা থাকবে না। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে সৌদি আরবের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান বা সেনা পাঠানোর রাস্তা একদম বন্ধ!
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে, আমেরিকার শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার সম্ভাবনা দেখা দিতেই এসব ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর খবরও ভেসে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ মার্কিন পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দেয়।
গোপন সূত্রগুলো আরও জানাচ্ছে, ইরানের ওপর হামলা হলে তারা শুধু নিজ দেশের সীমানায় আটকে থাকবে না। বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার ঘাঁটিগুলোর দিকেই নজর দেবে তেহরান। তাদের জবাব হবে দ্রুত ও শক্তিশালী।
সৌদি আরবের এই ঘোষণা ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জোটবিন্যাসকেই বদলে দিচ্ছে না, বরং ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলেছে।
