ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তার জবাবে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই এবার এক নতুন চাঞ্চল্যকর খবর। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর বলছে, ইরানের সাধারণ মানুষ এখন দেশ ছাড়ছেন লাখো লাখো। নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের ভয়ে তারা পাড়ি জমাচ্ছেন প্রতিবেশী তুরস্কের দিকে।

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভ্যান শহরের দিকে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ। অনেকেই সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়জনের হাত ধরে, আর জীবনভর সঞ্চয়ের মালপত্র। ইরান সরকারের কঠোরতা বাড়তে থাকায় চাকরি, নিরাপত্তা আর আগামী দিন নিয়ে প্রবল উদ্বেগ কাজ করছে তাদের মধ্যে।

বিদেশি ষড়যন্ত্রের ছায়া?

কিন্তু শুধু অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাই নয়, এই পালানোয় একটা বড়সড় প্রশ্নের ছায়া ফেলছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের একটা বড় অংশের ধারণা, ইরানের এই অস্থিতিশীলতার পেছনে আছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ সৃষ্টি ও আগ্রাসী নীতি। ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলাই কি তাদের লক্ষ্য? তারা বারবার চাপ দিয়ে ইরানের ভিত নাড়াচ্ছে বলে অনেকে সন্দেহ করছেন।

সীমান্তে 'মানবসমুদ্র', মনে প্রশ্নের ঘনঘটা

তুরস্ক সীমান্তে এই 'মানবসমুদ্র' শুধু ইরানিদের নিরাপত্তাহীনতারই নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের ফলও বটে। বহিরাগত শক্তিগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তির বিরুদ্ধে নানা কৌশল খাটাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে এই পুরো পরিস্থিতিতে ইরানের সাধারণ মানুষের মনেও একটা বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: পশ্চিমা শক্তির এই চাপ কি আদৌ দেশটির স্থিতিশীলতা ভেঙে দিচ্ছে? তাদের আগ্রাসী নীতি ও হস্তক্ষেপের জন্যই কি আজ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাপন হুমকির মুখে? পালানো মানুষগুলোর চোখে-মুখে সেই উদ্বেগ আর অস্থিরতাই স্পষ্ট।

 

news