গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আবারও আন্তর্জাতিক বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশের হাত থেকে দ্বীপটিকে রক্ষা করতে হলে আমেরিকাকেই এগিয়ে আসতে হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে ন্যাটো জোট আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো বিকল্প তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই মন্তব্যের কিছু সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। মূল লক্ষ্য ছিল ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা কমানো।
তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন পরিষ্কার করে জানান, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি কোনো পক্ষ বেছে নিতে হয়, তাহলে তারা ডেনমার্ককেই বেছে নেবে। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে কোপেনহেগেন মোটেও নরম অবস্থানে নেই।
গ্রিনল্যান্ডে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। বরফ গলে নতুন বাণিজ্যপথ খুলছে, পাশাপাশি অঞ্চলটিতে রয়েছে মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ। ট্রাম্পের দাবি, এই ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ পেলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের লাভবান হবে।
কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকের রাস্তায় ভিন্ন চিত্র। অনেক বাসিন্দাই ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ। ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা চাই না আমেরিকা আমাদের ওপর নজরদারি করুক। ডেনমার্ক আমাদের জন্য ভালো সুযোগ দেয়, আমেরিকা তা পারে না।”
অনেক স্থানীয় মানুষের ধারণা, চীন বা রাশিয়ার হুমকির কথা বললেও আসলে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করা।
এই ইস্যুতে ইউরোপও সরব হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো ট্রাম্পের অবস্থানকে “ব্ল্যাকমেল”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে একটি কনস্যুলেট খুলবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়ছে। কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য চাইছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চায়, তাহলে সেই উদ্যোগ ও ব্যয়সহ সব কার্যক্রম বন্ধে একটি আইন পাস করা হোক।
