ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী—এমন অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইতোমধ্যেই এসব অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী।

রাজধানী তেহরানের সরকারি সূত্র জানায়, ইরাক সীমান্ত ব্যবহার করে সশস্ত্র কুর্দি যোদ্ধারা ইরানের অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ইরানের দাবি, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য দেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।

সীমান্তে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই অনুপ্রবেশের পেছনে “বহিরাগত প্রভাবক শক্তি” কাজ করছে। তিনি বলেন, ইরাক ও তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের পথ তৈরি হচ্ছে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ইরান নিজের ভূখণ্ড রক্ষায় কোনো আপস করবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সীমান্তে ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় “দেখামাত্র গুলি” করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান সর্বোচ্চ কঠোরতা দেখাতে প্রস্তুত।

তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, পশ্চিমা শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির পেছনে থাকা ইসরায়েলের সহায়তায় কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। ইরান এই তৎপরতাকে দেশের ঐক্য ও ক্ষমতা দুর্বল করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে।

তুরস্কের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য না এলেও দেশটির কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বহিরাগত হস্তক্ষেপ ইরানের পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থান ও হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষাপটে তেহরান আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক রয়েছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রভাব এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের উদ্বেগ এখন চরমে।

 

news