গত কয়েক মাস ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও অসন্তোষকে হাতিয়ার বানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এই আতঙ্কের মূল হোতা স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি একের পর এক হুমকিধর্মী বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছেন।

এদিকে, প্রতিবেশী দেশ কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের ক一部分 সরানোর প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ওয়াশিংটন ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বরং দেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করার কৌশলেই নেমেছে।

২০২৫ সালের শেষভাগে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ রাজনৈতিক রূপ পায়। সেই থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার টানাপোড়েন এক উত্তেজনাকর স্তরে পৌঁছেছে। ইরানের বিরুদ্ধে সহিংসতা দমনের অভিযোগ এবং ট্রাম্পের হুমকির জবাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন—ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যে, "সাহায্য পথেই আছে"।

আমেরিকার এই ধরনের বক্তব্য যদিও সাধারণ মানুষের প্রতি সহায়তার প্রোপাগান্ডা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু ইরানের দৃষ্টিতে এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ভাঙার একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়। তেহরান ইতিমধ্যে তার বিবৃতিতে এই সুরই তুলে ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যেই এবার ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরাসরি যোগাযোগের এই ছেদ উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার পেছনে শুধু ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শক্তির সমীকরণ বদলে দেয়ার এবং ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যও কাজ করছে। ইরান ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো প্রকার বহিরাগত হস্তক্ষেপ ঘটলে তারা শুধু আত্মরক্ষায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দিতে পুরোপুরি সক্ষম ও প্রস্তুত।

 

news