গাজা শাসনের জন্য গঠিত হওয়া 'বোর্ড অব পিস' বা শান্তি পরিষদে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দেশকে আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের পর এবার তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানকে এই পরিষদের সদস্য হতে আহ্বান করেছেন তিনি। তিন দেশই পৃথকভাবে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে, যদিও তারা এখন বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার (১৮ জানুয়ারি) জানিয়েছে, রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এই আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তানও একই ধরনের আমন্ত্রণ পেয়েছিল বলে নিশ্চিত করে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের এক মুখপাত্র শনিবার জানান, এরদোগানকে ট্রাম্পের কাছ থেকে পরিষদের 'প্রতিষ্ঠাতা সদস্য' হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সময়ে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে এবং মিশর তা বিবেচনা করছে।

কিন্তু ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ইসরায়েলের মোটেই পছন্দ হচ্ছে না। গাজায় চলমান সংকট সমাধানের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার একটি বড় অংশ এই শান্তি পরিষদ হলেও, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রোববারই তার জোট সরকারের নেতাদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দপ্তর ইতিমধ্যেই এই পরিষদের অধীনে গঠিত 'গাজা নির্বাহী বোর্ড'-এর গঠন নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি ইসরায়েলের সাথে কোনো সমন্বয় ছাড়াই ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। তবে তারা তাদের আপত্তির বিস্তারিত কারণ স্পষ্ট করে বলেনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প নিজে এই পদক্ষেপকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, "শান্তি পরিষদ ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের বিষয়। বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে।" তিনি আরও জানিয়েছেন, এই পরিষদের সদস্যদের নাম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সরাসরি যুক্ত করার এই চাল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও তারা ফিলিস্তিনি অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহায়তা জোরদার করতে চাইছে।

 

Walton Ads