ইরানের কড়া সতর্কবার্তার জবাবে এবার যুদ্ধংদেহী ভাষায় পাল্টা হুমকি দিল ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে ইরানকে এমন ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে, যা তারা আগে কখনো কল্পনাও করেনি। এই বক্তব্য এসেছে ঠিক তখনই, যখন ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে হামলাকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে বিবেচনা করার কথা বলেছে।
কী বললেন নেতানিয়াহু?
সোমবার (২০ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, "ইরান যদি ভুল করেও আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে আমরা এমন শক্তি দিয়ে জবাব দেব, যা তারা কল্পনাও করেনি।" বিশ্লেষকরা এই বক্তব্যকে ইসরাইলের আতঙ্ক ও আগ্রাসী মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ওপর ইসরাইল গভীর নজর রাখছে।
ইরানের আগের হুঁশিয়ারি কী ছিল?
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের একদিন আগে, রোববার (১৯ জানুয়ারি), ইরান কোনো দেশের নাম না নিয়ে তাদের 'শত্রুদের' উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল। তেহরান জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবেই দেখা হবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে মন্তব্য
নেতানিয়াহু তার বক্তব্যের মধ্যে ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গও তোলেন এবং কিছু বিক্ষোভকারীর 'সাহসিকতার' প্রশংসা করেন। এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
পেছনের কাহিনী: কার ষড়যন্ত্র?
ইরানের দাবি, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তার পেছনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও উসকানি রয়েছে। যদিও বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি থেমে যায়নি। ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, এই অস্থিরতার পেছনে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের হাত আছে।
পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক?
এই পাল্টাপাল্টি হুমকি-প্রত্যাহুঙ্কের মধ্য দিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত টানটান হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই যেন পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকলেও, তারা এই উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বাকযুদ্ধই থেকে যায়, নাকি বাস্তবে কোনো সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।
