মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদম খোলাখুলি বলে দিলেন—যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত একেবারে চরম বোকামি! কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনের ওপর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাজ্য আর মরিশাসের মধ্যে এই চুক্তি হয়। এরপর থেকেই বিতর্ক চলছে। এবার মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে ট্রাম্প সরাসরি আক্রমণ করলেন।
তিনি লেখেন—
“অবিশ্বাস্য! আমাদের ‘মেধাবী’ ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য এখন ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ মরিশাসকে দিয়ে দিচ্ছে—যেখানে আমেরিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আছে। কোনো যুক্তি-টুক্তি ছাড়াই এটা করছে তারা!”
ট্রাম্পের কথা, এই দুর্বলতা চীন আর রাশিয়া খুব ভালোভাবে দেখছে। তার ভাষায়—
“চীন ও রাশিয়া যে যুক্তরাজ্যের এই চরম দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য করছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই দেশগুলো শুধু শক্তিকেই সম্মান করে।”
তিনি আরও বলেন, এমন একটা কৌশলগত দ্বীপ ছেড়ে দেওয়া যুক্তরাজ্যের জন্য একদম ‘চরম বোকামি’।
একই পোস্টে ট্রাম্প তার পুরনো গ্রিনল্যান্ড কেনার আইডিয়াকেও যুক্ত করলেন। বললেন—যুক্তরাজ্য যদি ডিয়েগো গার্সিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছেড়ে দিতে পারে, তাহলে আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের মতো কৌশলগত এলাকা নিজেদের হাতে রাখা জরুরি।
‘মেধাবী ন্যাটো মিত্র’ বলে যুক্তরাজ্যকে ব্যঙ্গ করেছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে তিনি শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পুরো ন্যাটো জোটের শক্তি আর দৃঢ়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না—এটা রাশিয়া-চীনের মতো শক্তিগুলোর কাছে খুব খারাপ বার্তা যাচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে চলে যাবে। তবে ডিয়েগো গার্সিয়ার যৌথ আমেরিকা-যুক্তরাজ্য সামরিক ঘাঁটি আগামী ৯৯ বছর পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
