নিজের কোনো ক্ষতি হলে ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ নির্দেশনা আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তিনি নিজেই এমন বিস্ফোরক দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ভয়াবহ সামরিক হামলার নির্দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে ইরান কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হলে শুধু ট্রাম্পের হাত বিচ্ছিন্ন করা হবে না, তাকেও হত্যা করা হবে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আরও আক্রমণাত্মক সুরে পাল্টা হুমকি দেন ট্রাম্প।

ইরানের সেনাবাহিনীর জেনারেল আব্দুলফজল শেখারচি বলেন, “ট্রাম্প ভালো করেই জানেন—আমাদের নেতাদের দিকে যদি আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, তাহলে আমরা শুধু সেই হাতই বিচ্ছিন্ন করব না। এটা কোনো স্লোগান নয়, এটাই বাস্তবতা।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আগ্রাসন হলে আমরা পুরো বিশ্বে আগুন জ্বালিয়ে দেব, তাদের জন্য কোনো নিরাপদ জায়গা থাকবে না।”

ইরানি জেনারেলের এই কড়া বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার জন্য খুবই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। যদি আমার কিছু হয়, তাহলে মার্কিন সেনারা ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরও একই ধরনের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তখনও তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে, তাহলে দেশটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থানের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এলিট ইউনিট কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান।

বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে—আত্মসম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না।

 

news