ইরানের সামনে ইসরায়েলের অসহায়ত্ব এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন দেশটিরই সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে তেলআবিবের গর্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং ইসরায়েলের এখন যুদ্ধে নামার সাহসও নেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও মেনে নিয়েছেন যে ইরানের ওপর হামলা চালানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই।
ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে সোমবার দেওয়া বক্তব্যে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা এভিগদোর লিবারম্যান চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ হলে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে, ঠিক যেমনটি তারা গত ১২ দিনের সংঘর্ষে সফলভাবে দেখিয়েছে।
তার ভাষায়, "ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সামনে তেলআবিবের তথাকথিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সামরিক প্রতিরক্ষা পুরোপুরি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান যদি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।"
লিবারম্যান আরও জানান, এই কঠিন বাস্তবতা প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু নিজেই স্বীকার করেছেন। তার মতে, গত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
এই স্বীকারোক্তির পাশাপাশি আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এলো। ইসরায়েলি টিভি চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান আয়াল জামির প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির কাছে একটি গোপন ও কঠোর ভাষার চিঠি পাঠিয়েছেন।
ফাঁস হওয়া সেই চিঠিতে তিনি সেনাবাহিনীতে মারাত্মক 'জনবল সংকট' নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকট চলতি বছর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা, অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভিতর থেকে দুর্বলতা—দুই দিক থেকেই ইসরায়েলের যুদ্ধ করার সামর্থ্য নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে, ইরানের বিরুদ্ধে তারা যতই বড় বড় হুমকি দিক না কেন, বাস্তবে সেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি বা সাহস তাদের নেই।
সাবেক মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি এবং সেনাপ্রধানের গোপন চিঠি ইসরায়েলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। এই দুর্বলতা এবার শুধু গুপ্তচর বৃত্তান্ত নয়, বরং প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্য হয়ে উঠছে। এখন দেখা যাক, ভবিষ্যতে ইসরায়েল কী ধরনের কৌশল নেয় এবং এই আত্মস্বীকৃত দুর্বলতা কি তাদের যুদ্ধনীতি বদলাতে বাধ্য করে।
