ভারত ও পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। টানা চার দিন চলা সেই উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামে। ওই সময় দুই দেশ পারমাণবিক যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তব্য, নিজের হস্তক্ষেপেই শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বছর পূর্ণ করেছেন ট্রাম্প। এই এক বছরে নিজের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের প্রসঙ্গও সামনে আনেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি ১০ মাসে ৮টি বড় অসমাপ্ত যুদ্ধ থামিয়েছি। পাকিস্তান ও ভারত—তারা সত্যিই পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছিল। আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ওয়াশিংটনে এসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে বলেছেন—‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ কোটি বা তারও বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।’”
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষ থেমেছে। কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা সেখানে ছিল না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ওই হামলায় সন্ত্রাসীরা বেছে বেছে পুরুষদের হত্যা করে। এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে পাকিস্তানের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত।
এরপরই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আকাশযুদ্ধ। পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের অন্তত সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মুখোমুখি সংঘর্ষে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে নিজের ভূমিকা ও কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরছেন ট্রাম্প।
