ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ব্যর্থ হলেও দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরও ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি কি বহাল থাকবে? জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব, এটি খুব ভালোভাবেই কার্যকর থাকবে। তাদের সেনাবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এই দুই ইস্যুতে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আলোচনা শেষ হয়।
এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান চালায়।
এই সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই দিনের হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান—স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। আর মোজতবা খামেনি নিজে গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তবে টানা ২১ ঘণ্টার বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
