সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, তারা এমন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মাইকেল মুলরয় মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তাহলে তা আগের দফার তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যদি বাস্তব কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে সংঘাত আরও দ্রুত এবং তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

মুলরয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানার চেষ্টা করবে। তবে ইরান যদি তার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তাহলে পুরো সামরিক পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ যদি ইরানের হাতে থাকে, তাহলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত এবং জটিল হয়ে উঠবে।

এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরী এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।


 

news