ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং ভিন্ন ভিন্ন দাবি-দাওয়ার কারণে দুই দেশের শান্তি আলোচনা নতুন করে গভীর অচলাবস্থায় আটকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের গণমাধ্যম বিষয়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে দুই পক্ষের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র—দু’পক্ষই এখনো আগের কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে, যার ফলে আলোচনার অগ্রগতি কার্যত থেমে গেছে।
অধ্যাপক এলমাসরি আরও জানান, সংকট সমাধানের জন্য ইরান তাদের পক্ষ থেকে ১০টি দাবির একটি তালিকা দিয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে ১৫টি দাবি। এই দুই তালিকা পাশাপাশি রাখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, দুই দেশের লক্ষ্য ও অবস্থানের মধ্যে বিশাল দূরত্ব রয়েছে। আর এ কারণেই আলোচনায় অচলাবস্থা দীর্ঘ হওয়া এখন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংকটের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো মার্কিন প্রশাসনের একটি ভুল ধারণা। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান দ্রুত তেল সংকটের কারণে বড় বিপর্যয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করবে।
তবে এলমাসরির মতে, বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। ইরান ইতোমধ্যে বিকল্প কৌশল গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন উপায়ে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। ফলে তারা আরও দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দুই দেশের কঠোর অবস্থান এবং ভুল ধারণাই এই শান্তি আলোচনাকে জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
