রাশিয়ার মোসগরলোমবার্ড কোম্পানি ভারতের গুজরাটে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র GIFT সিটিতে স্বর্ণ ও রূপা বিক্রির জন্য স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল স্থাপন করবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানটি ভারতের সোনা বাজারে প্রবেশ করতে চায়।
PJSC MGKL, যা মোসগরলোমবার্ডের হোল্ডিং কোম্পানি, পশ্চিম গুজরাটে অবস্থিত GIFT সিটিতে নিবন্ধিত হয়ে দেশটির পুঁজিবাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে। প্রথম পর্যায়ে তারা স্বর্ণ ও রূপার কেনাবেচার জন্য স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল স্থাপন করবে বলে ইন্টারফ্যাক্স সূত্রে জানা গেছে।
এরপর তারা ভারতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে, যা স্বর্ণ বন্ধক রেখে ঋণ প্রদান করবে। গত বছর মর্গ্যান স্ট্যানলি বরাতে সিএনবিসি জানিয়েছে, ভারতীয় পরিবারের হাতে প্রায় ৩৪,০০০ টন স্বর্ণ রয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশের স্বর্ণ বন্ধক ঋণের বাজারে মোট ঋণের পরিমাণ ২২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে মাত্র ১০-১২ শতাংশ স্বর্ণই বন্ধক রাখা হয়েছে, যা মোসগরলোমবার্ডের মতো কোম্পানির জন্য ব্যাপক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে।
মোসগরলোমবার্ড একটি প্রধানpawnshop চেইন এবং পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম, যা গহনা, চামড়া পণ্য ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর বিপরীতে দ্রুত স্বল্পমেয়াদী ঋণ প্রদান করে। MGKL-এর সিইও আলেক্সি লাজুটিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের স্বর্ণ বন্ধক ঋণের বাজারের পরিধি ও পরিপক্কতা বিবেচনা করে, তারা স্বর্ণ গ্রহণে যোগাযোগহীন পদ্ধতির ব্যাপক চাহিদার প্রত্যাশা করছে।
MGKL মূল্যবান ধাতু কিনে ও প্রক্রিয়াজাত করতেও সক্রিয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় ক্রেডিট রেটিং সংস্থা CareEdge Global MGKL-কে দীর্ঘমেয়াদী স্থানীয় মুদ্রায় B- রেটিং দিয়েছে স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে।
GIFT সিটি সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে ও দুবাইয়ের DIFC-এর মতো বিশ্বমানের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন, কর প্রণোদনা এবং ভারতের দ্রুত বর্ধমান আর্থিক ইকোসিস্টেমের সুবিধা পাওয়া যায়। এই কেন্দ্রের ব্যাংকিং সম্পদের আকার ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভারতীয় স্বর্ণ বাজারে রুশ প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ শুধু আর্থিক বিনিয়োগের মাত্রা বাড়াবে না, বরং স্বর্ণ বন্ধক ঋণ খাতেও নতুন প্রযুক্তি ও পরিষেবা নিয়ে আসবে। GIFT সিটির আন্তর্জাতিক আর্থিক সুবিধা এই ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগে উৎসাহ যোগাবে, যা ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, স্বর্ণের প্রতি ভারতীয়দের প্রবল আকর্ষণ এবং বন্ধক ঋণের বাজার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেশের আর্থিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।