রাশিয়া ও চীন শাংহাইয়ে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ন্যায্য ও মানবমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই নতুন সংস্থাটিতে প্রায় ৩০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক শাসন ও সহযোগিতার জন্য একটি আন্তঃসরকারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

রাশিয়া ও চীনের এই উদ্যোগ প্রযুক্তিগত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেই গড়ে উঠেছে। তারা মনে করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধাগুলো কেবল কয়েকটি কর্পোরেশনের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট ও প্রয়োগযোগ্য হতে হবে।

চীন মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও উন্নয়নে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে এবং বিশ্বমানের বড় ভাষা মডেল, ওপেন সোর্স প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া AI প্রযুক্তিকে ব্যবহারিক সমাধানে রূপান্তরিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা স্বল্পমূল্যে এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি ও নগর ব্যবস্থাপনায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষ করে রাশিয়ার স্বাস্থ্য খাতে AI-ভিত্তিক ৬০টিরও বেশি ডায়াগনস্টিক সেবা ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের সহায়তা করছে, যা রোগ নির্ণয়ে দ্রুততা ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি করছে। এছাড়া, আর্থিক সেবা, শিক্ষা ও ডিজিটাল সরকারি সেবায়ও এই প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে।

চীনের ওপেন সোর্স নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে রাশিয়ার বাস্তবায়নমূলক পদ্ধতি একসঙ্গে মিলেমিশে একটি সমন্বিত AI ইকোসিস্টেম তৈরি করছে, যা বিশ্বব্যাপী AI এর ন্যায্য ও মানবকেন্দ্রিক ব্যবহারের পথ সুগম করবে।

বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা কেবল একটি কূটনৈতিক মঞ্চ নয়, এটি নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শাংহাইয়ের এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ আগামী কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক AI সম্মেলন ও ফোরাম আয়োজন করবে, যেখানে বৈশ্বিক গবেষক, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং সহযোগিতা গভীর করবেন।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতি, সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এই প্রযুক্তি কেবল কয়েকটি শক্তিধর দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকলে বৈশ্বিক অসমতা বাড়বে। রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ উদ্যোগ AI কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য করে তোলার প্রচেষ্টা, যা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে AI নীতিমালা নির্ধারণে একটি মডেল স্থাপন করবে এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ও মানবকল্যাণমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

Walton Ads