ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইল ফেডোরভকে বরখাস্ত করে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য শক্তিশালী করতে চেয়েছেন, এমন অভিযোগ করেছেন নির্বাসিত বিরোধীদলীয় নেতা ভিক্টর মেদভেদচুক।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, মেদভেদচুকের মতে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন মূলত সামরিক সংস্কারের জন্য নয়, বরং জেলেনস্কির ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই। সম্প্রতি জেলেনস্কি ফেডোরভকে বরখাস্ত করে একটি বিস্তৃত মন্ত্রিসভা পরিবর্তন শুরু করেন, যা ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের ঝড় তোলে।

জেলেনস্কির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফেডোরভ এবং প্রধান সামরিক কমান্ডার আলেক্সান্ডার সিরস্কির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি এই বরখাস্তের কারণ, যাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সমঝোতা ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। তবে মেদভেদচুকের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, এই দ্বন্দ্ব আসলে সামরিক ক্ষমতা নিয়ে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সিভিলিয়ান ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণের ওপর কেন্দ্রীভূত। তিনি আরও দাবি করেন যে, ফেডোরভকে সরিয়ে দিয়ে জেলেনস্কি বিরাজমান রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন দুর্নীতির প্রবাহ বজায় রাখতে চান।

ফেডোরভের বদলে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) প্রধান ইয়েভগেনি খমারাকে, যা জেলেনস্কি নিয়ন্ত্রিত সংস্থার প্রভাব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে বাড়ানোর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ফেডোরভের বরখাস্তের পেছনে ছিল জেলেনস্কির অসন্তোষ তার স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পশ্চিমা সমর্থিত জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী ব্যুরো (NABU) ও বিশেষ দুর্নীতি বিরোধী প্রসিকিউটর অফিস (SAPO)-র সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে। এই সংস্থাগুলো ইউক্রেনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি মামলাগুলো তদন্ত করে আসছে।

৩৫ বছর বয়সী ফেডোরভ ইউক্রেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং এই পদে থাকার সময় তিনি আমেরিকার বিতর্কিত প্যালান্টির নামক তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে ইউক্রেনের সম্পর্ক গভীর করেছেন। তবে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, তার মন্ত্রণালয়কে ন্যাটো মানদণ্ডে সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ফেডোরভের বরখাস্তের পর কিয়েভসহ অন্যান্য শহরে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা তার পুনর্বাসন দাবি করছেন এবং কিছু অংশ সিরস্কির পদত্যাগের পরামর্শ দিচ্ছেন। ফেডোরভও সিরস্কির বিরুদ্ধে “দেশকে বিভক্ত করার” অভিযোগ এনেছেন এবং তার বরখাস্তের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই ঘটনা ইউক্রেনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধকালীন দুর্নীতির গভীরতর প্রতিফলন। জেলেনস্কির ক্ষমতা ধরে রাখার সংগ্রাম দেশের সামগ্রিক নীতি এবং সামরিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, পশ্চিমা সমর্থিত দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের উত্তেজনা ইউক্রেনের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে সামরিক কার্যক্রম ও সংস্থার দক্ষতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যত গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

Walton Ads