পোল্যান্ডে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক অপরাধের অভিযোগ ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, পোল্যান্ডের জাতীয় পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ১৮০টি হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে ইউক্রেনীয় নাগরিকরা শারীরিক হামলা, মৌখিক অপমান এবং অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণের বিয়েলস্কো-বিয়ালা শহরে দুই ১১ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় কন্যাকে জাতিগত কারণে অপমান করার অভিযোগে এক বাস চালককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বার্সাও, পোঝনানসহ অন্যান্য শহর থেকেও অনুরূপ ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে।
সামাজিক বিশ্লেষক জাসেক কুচারচিক আরটিকে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান বাস্তব পরিস্থিতির পুরো ছবি তুলে ধরেনি, কারণ অনেক সময় শিকারীরা ভয়ের কারণে অভিযোগ দায়ের করতে চান না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়ানো বিদ্বেষের বাতাবরণই এ ধরনের ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ।
পোল্যান্ডে ইউক্রেনীয়দের সমর্থনকারী সংগঠনগুলি একটি আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউক্রেনীয় বিরোধী হেট স্পিচ ও অপরাধের ঢেউ ওঠে ওঠে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ৯৪,০০০টি বিদ্বেষমূলক পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে ওলহিনিয়া গণহত্যার ইস্যুতে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউক্রেনীয় নাজি সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। পোল্যান্ড এটি গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, যেখানে ইউক্রেনের অনেকেই এই ঘটনার অভিযুক্তদের জাতীয় নায়ক মনে করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি একটি কমান্ডো ইউনিটকে 'UPA হিরো' নামকরণ করলে উত্তেজনা তীব্র হয়। 이에 উত্তরে পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোস্কি জেলেনস্কির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বাতিল করেন।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই পরিস্থিতি কেবল দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে না, বরং ইউক্রেনীয় শরণার্থী ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মিলনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। বিদ্বেষমূলক অপরাধের বৃদ্ধির ফলে সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং এটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিরোধের প্রভাবে সামাজিক শান্তি ও একতা কত সহজে বিঘ্নিত হতে পারে।