ব্রাজিলের ওপর ২৫% আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ আগামী সপ্তাহে ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্কের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে একই ধরনের শুল্ক ভারতের ওপরও আরোপিত হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে সেকশন ৩০১ অনুসন্ধানের পর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এই শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ২২ জুলাই থেকে। আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস জানিয়েছে, ব্রাজিলের ভারত ও মেক্সিকোর সঙ্গে বিশেষ শুল্ক সুবিধাজনক চুক্তি থাকার কারণে এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে।
নতুন দিল্লি উদ্বিগ্ন যে একই ধরনের শুল্ক ভারতের ওপরও আরোপিত হতে পারে, কারণ ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা একই সেকশন ৩০১ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। গত মাসে আমেরিকার অর্থ মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বাণিজ্য প্রতিনিধিরা এই তদন্ত শেষ করার পর শুল্কের হার পূর্বের পর্যায়ে ফিরে যেতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় আমেরিকা আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছিল। এরপর আমেরিকা শুল্ক পুনরায় আরোপের পথ খুঁজছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও আমেরিকা প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করলেও, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা মন্থর হয়ে পড়েছে।
সেকশন ১২২ এর আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর আরোপিত ১০% শুল্ক ২৪ জুলাই শেষ হবে, যা সব দেশের জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ভারতের জন্য প্রাপ্ত সুবিধা সীমিত করতে পারে। সেকশন ৩০১ এর আওতায় অন্য যেকোনো অতিরিক্ত শুল্কের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা প্রযোজ্য।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পিয়ূষ গোয়েল গত মাসে বলেছেন, “প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভারত আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি কার্যকর করতে পারবে না।” ভারতীয় অর্থনীতিবিদ বিশ্বজিৎ ধর হিন্দু বিজনেস লাইন-কে বলেছেন, ভারতের প্রধান রপ্তানি খাত যেমন বস্ত্র শিল্প শুল্ক তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে পারে।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের রপ্তানি খাতের ওপর শুল্ক আরোপ হলে বাণিজ্য চুক্তির সুফল কমে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান দুর্বল করতে পারে এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জটিলতর করবে।
বিশ্ব বাণিজ্য নীতিমালা ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এই ধরনের শুল্ক ব্যবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভারতের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ, যাতে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় তার অবস্থান শক্তিশালী থাকে।