পোলিশ প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরকি গত শুক্রবার দেশটির সংসদে প্রস্তাবিত সমকামী সহবাস চুক্তি বিল veto করেছেন, যা তিনি বিবাহের সংবিধানগত সংজ্ঞার বিরুদ্ধে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, এই বিল পুরুষ ও মহিলার মধ্যে বিবাহকে সংজ্ঞায়িত করা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে প্রেসিডেন্টের দাবি।
বিলটি এমন একটি আইনি কাঠামো প্রবর্তনের কথা বলেছিল, যেখানে লিঙ্গ নির্বিশেষে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ‘সহবাস চুক্তি’ করতে পারবে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা চিকিৎসা তথ্য অ্যাক্সেস, যৌথ সম্পত্তির অধিকার এবং দাফনের বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। তবে বিলটি ইতোমধ্যে সংশোধিত হয়েছিল যাতে সংরক্ষণশীল অংশীদারদের সমর্থন পাওয়া যায়, যারা বলেছিলেন এটি বিবাহের মর্যাদা হ্রাস করবে।
প্রেসিডেন্ট নাওরকি বলেন, "এই বিল বিবাহের বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে ফেলবে, যা সংবিধানে পুরুষ ও মহিলার মিলন হিসেবে সংজ্ঞায়িত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বিলটি একটি নতুন পারিবারিক আইনের প্রতিষ্ঠান গঠন করবে, যা বিবাহের মতো অধিকারের বিস্তৃত তালিকা বহন করবে।"
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই veto-কে কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে জনগণের সুখ ও স্বাভাবিক জীবনের অধিকারকে অবজ্ঞা বলে অভিহিত করেছেন। টাস্ক ইতিমধ্যে বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং গর্ভপাত নিয়ন্ত্রণে শিথিলতার ক্ষেত্রে সংস্কার আনার। তবে শাসনযন্ত্রের অভ্যন্তরে ঐক্যের অভাব এবং প্রেসিডেন্টের জাতীয়তাবাদী মনোভাব এই পরিকল্পনাগুলোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে।
এখন সরকারের পার্লামেন্টে তিন-পঞ্চমাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে veto উল্টে দেওয়ার প্রয়োজন, যা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ডানপন্থী বিরোধী দলগুলো বিলটির কঠোর বিরোধিতা করছে এবং শাসক জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পর্যাপ্ত নয়।
গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত পোল্যান্ডকে অন্য সদস্য দেশগুলোতে নিবন্ধিত সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেছিল। চলতি বছরের মার্চে পোল্যান্ডের সুপ্রীম প্রশাসনিক আদালত প্রথমবার এই রায় উল্লেখ করে জার্মানিতে নিবন্ধিত দুই পোলিশ পুরুষের বিবাহ স্বীকৃতি দিতে আদেশ দেয়। মে মাসে দেশটিতে প্রথম সমকামী বিবাহ সনদ জারি হয়।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
পোল্যান্ডের এই veto সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে এলজিবিটিকিউ অধিকার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করেছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতি এবং সামাজিক নীতির সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যবোধের সংঘর্ষের প্রতিফলন। ভবিষ্যতে পোল্যান্ডের মানবাধিকার নীতিমালা ও আইনি সংস্কারের গতি এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া, এটি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।