মিয়ানমারের বন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সুই কী সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, দেশটির সরকারি মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। ৮১ বছর বয়সী এই নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই সাক্ষাৎ ও তার ছবি প্রকাশ পেল। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে তাঁর কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সাথে প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপিদোতে আইসিআরসি’র আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দ্য বেকের সাথে এই বৈঠক হয়। সরকারি মুখপাত্র খিন খিন সো টেলিগ্রামে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের জান্তা সুই কী-কে ‘সুস্বাস্থ্যের অধিকারী’ বলে দাবি করলেও তার ছেলে কিম অ্যারিস জানিয়েছিলেন, বার্ধক্যজনিত মায়ের অবস্থা সম্পর্কে তিনি খুব কমই জানতে পারেন এবং বছরখানেক ধরে তার কোনো খবর পাননি।

সরকারের দেওয়া চারটি ছবিতে সুই কীকে ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাকে দেখা গেছে। কাঠের তৈরি সাধারণ একটি কক্ষে মাত্র দুটি চেয়ার ও একটি টেবিল রেখে তিনি দ্য বেকের সাথে হাত মেলাচ্ছেন। আরেকটি ছবিতে তার নাম খোদাই করা জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায় তাকে, যেখানে ‘হ্যাপি বার্থডে আন্টি সুই ২৯.৬.২০২৬’ লেখা রয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এই ছবিগুলোর স্থান ও সময় স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানে সুই কী-এর নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তার সমর্থকদের অভিযোগ থাকা নানা মামলায় তিনি মোট ২৭ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। গত এপ্রিলে সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে রাষ্ট্রপতি করার পর তাকে কারাগার থেকে গৃহবন্দী করা হয় এবং সাজার মেয়াদও কিছু কমিয়ে আনা হয়। তবে ফিলিপাইনের অনুরোধ সত্ত্বেও আসিয়ান ব্লকের বিশেষ দূতের সাথে তাঁর দেখা করানোর অনুমতি দেয়নি নতুন সরকার।

ঘটনার পটভূমি
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই দেশটির প্রায় ৫ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। এই সংকটে সুই কী-এর অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে গত এপ্রিলে তার ছেলে ‘প্রুফ অফ লাইফ’ (জীবনের প্রমাণ) ক্যাম্পেইন শুরু করলে চাপ আরও বেড়ে যায়। এই বৈঠককে জান্তা সরকার তাদের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর একটি প্রয়াস হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আগামী ৬ আগস্ট জান্তা প্রধানের থাইল্যান্ড সফর রয়েছে। এই বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে গৃহযুদ্ধ বন্ধ ও সুই কী-এর মুক্তির দাবি আরও জোরালো হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

Walton Ads