পেরুর বিখ্যাত নাজকা লাইন্সের ওপর আকাশপথে ভ্রমণের সময় একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজকা প্রদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের কাছাকাছি এই দুর্ঘটনা ঘটে ।

পেরুর বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানটিতে ১১ জন বিদেশি পর্যটক ও দুই জন ক্রু সদস্য ছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুয়েব্লো ভিয়েহো এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, যা নাজকা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং নাজকা লাইন্স থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরপিপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইট পরিচালনার সময় এবং ফিরতি যাত্রা শুরুর প্রস্তুতির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায়, যা উদ্ধার কার্যক্রম প্রায় অসম্ভব করে তোলে । ফায়ার সার্ভিস ও পৌর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক উদ্ধার কাজ চালায় ।

বিমানটি স্থানীয় পেরুভিয়ান এয়ারলাইন অ্যারোডিয়ানার ছিল এবং এটি পিস্কো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও অজানা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা তদন্ত শুরু করেছে । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে শুষ্ক সমভূমিতে একটি ছোট বিমানের ধোঁয়ায় জর্জরিত ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, নাজকা লাইন্সের ওপর ফ্লাইট পরিচালনাকারী মারিয়া রেইচে বিমানবন্দর থেকে শুক্রবার প্রবল বাতাসের কারণে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি বেগে প্রবাহিত ওই বাতাস ধুলো উড়িয়ে দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করতে বাধ্য করেছিল ।

ঘটনার পটভূমি

নাজকা লাইন্স পেরুর অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ, যা বার্ষিক প্রায় ১ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। প্রায় ২ হাজার বছর আগে নাজকা সভ্যতার দ্বারা তৈরি এই বিশাল জ্যামিতিক নকশা ও প্রাণীর আকৃতির রেখাগুলো ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত। অধিকাংশ দর্শনার্থী এই রেখাগুলো ছোট বিমান থেকে দেখতে পছন্দ করেন, কারণ মাটি থেকে এগুলোর সম্পূর্ণ রূপ বোঝা কঠিন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পর্যটন খাতের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেরুর পর্যটন খাত কোভিড-১৯ মহামারির পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, কিন্তু দুর্ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।

Walton Ads