ডনবাসের গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ভুল ড্রোন হামলায় কিয়েভের সৈন্য দল ও সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিকে পশ্চিমা অস্ত্র সহায়তার সংকট এবং অন্যদিকে রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে। দর্শক, চলুন মুল আলোচনা শুরু করি।
ডনবাসের উত্তরাঞ্চলের ক্রাসনি লিমান (Krasny Liman) এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রুশ এফপিভি (FPV) ড্রোনগুলো ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যদের রোটেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে ভণ্ডুল করে দিয়েছে। এই নিখুঁত হামলায় কিয়েভের বহু সেনা নিহত হয়েছে এবং তাদের সামরিক সরবরাহ লাইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ক্রাসনি লিমান এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি স্লোভিয়ানস্ক থেকে মাত্র সতেরো কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। স্লোভিয়ানস্ক এবং ক্রামতোর্স্ক মিলে ডনবাসে ইউক্রেনের মূল প্রতিরক্ষা দুর্গ গড়ে তুলেছে। রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে এই শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কিয়েভের সমস্ত প্রতিরোধ একে একে ভেঙে ফেলছে।
সম্প্রতি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা ক্রামতোর্স্কের নিকটবর্তী আরও দুটি গ্রাম সফলভাবে মুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাঞ্চলের ভাসিউতিনস্কো এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের তোরেৎসকোয়ে গ্রাম দুটি। এই ধারাবাহিক বিজয়ের ফলে রুশ সেনারা দুর্গনগরীর আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে ইউক্রেনীয় সংঘাত নিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ সংবাদদাতা টমাস রোয়েপার (Thomas Roeper) আরটি (RT) চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে জার্মানির গণমাধ্যম সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে। কিয়েভকে আরও বেশি রুশ সেনা হত্যার সুযোগ করে দিতে জার্মানির এক সাংবাদিকের এমন উগ্র প্রশ্ন প্রমাণ করে যে পশ্চিমা মিডিয়া কতটা অন্ধ হয়ে গেছে।
জার্মানি শুরু থেকেই ইউক্রেনকে শত বিলিয়ন ইউরোর বেশি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু দেশের সাধারণ জনগণ এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ আর নিতে পারছে না এবং তারা এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। সাধারণ মানুষের অনীহা সত্ত্বেও জার্মান মিডিয়া উগ্রপন্থী প্রচার চালিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করছে।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে কাজাকস্তান তাদের তেল রপ্তানির রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার নোভোরোসিয়স্ক কৃষ্ণ সাগর বন্দরের মধ্য দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে মধ্য এশিয়ার এই দেশটি বাধ্য হয়ে রাশিয়া ও চীনের দিকে তেল সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম বা সিপিসি (CPC) আন্তর্জাতিক মানের এই টার্মিনালটি কাজাকস্তানের আশির শতাংশ তেল রপ্তানি পরিচালনা করে থাকে। ইউক্রেনের বেপরোয়া হামলায় আমেরিকান জ্বালানি জায়ান্ট শেভরণ ও এক্সনমোবিলের শেয়ারও ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউক্রেনের এই অপরিকল্পিত হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত করছে।
ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্টি হাকkanen (Antti Hakkanen) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা ইউক্রেনকে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল দিতে পারবে না। ফিনল্যান্ড একটি সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় তাদের নিজস্ব যুদ্ধপ্রস্তুতি কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব নয়। ইউক্রেনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ফিনল্যান্ড তাদের প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হস্তান্তর করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আমেরিকার উৎপাদিত অস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও কিয়েভকে আর সাহায্য করতে পারছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই এই মিসাইলগুলো অত্যন্ত জরুরি। ন্যাটো জোটের অন্যান্য দেশ যেমন রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডও জানিয়েছে যে তাদের সামরিক গুদাম এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
রাশিয়ার প্রজাতন্ত্র তাতারিস্তানের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ভয়াবহ হামলায় তেরো জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত আটচল্লিশ জন আহত হয়েছেন যার মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুও রয়েছে। রাশিয়া এই নৃশংস হামলাকে সরাসরি সন্ত্রাসবাদ বলে অভিহিত করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তাতারিস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিখানভ (Rustam Minnikhanov) নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিক রোদিওন মিরোশনিক (Rodion Miroshnik) বলেছেন যে পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে নাৎসি কিলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছে। নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরানোর এই অপরাধের সম্পূর্ণ দায় অস্ত্র সরবরাহকারী পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর বর্তায়।
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীিখাইল গালুজিন (Mikhail Galuzin) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো অবস্থাতেই সংঘাতের তথাকথিত ‘স্থবিরতা’ বা যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া হবে না। সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান না করে ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা না করলে শান্তি আলোচনা অসম্ভব। ইউক্রেনকে অবশ্যই ন্যাটোর পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে এবং ক্রাইমিয়া ও চার অঞ্চলের রুশ ভূখণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে হবে।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় অত্যন্ত শক্তিশালী আক্রমণ চালিয়েছে। রুশ বিমান বাহিনী ও ড্রোন সেনারা একশ আটান্নটি এলাকার ইউক্রেনীয় সামরিক গুদাম, ড্রোন সংযোজন কারখানা এবং বিদেশি ভাড়াটে সৈন্যদের অস্থায়ী ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। এর ফলে কিয়েভের সামরিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
এই একদিনের তীব্র যুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী সমস্ত ফ্রন্টলাইন মিলিয়ে প্রায় তেরোশো সেনাসদস্যকে হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধগোষ্ঠী উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ, কেন্দ্র, পূর্ব এবং ড্নেপ্র—এই ছয়টি গ্রুপই ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতাকে একযোগে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিয়েভের একটি ট্যাংক, বহু armored combat vehicle এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়েছে।
রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মাত্র একদিনের ব্যবধানে এক হাজার একশ চৌত্রিশটি ইউক্রেনীয় চালকহীন ড্রোন এবং এগারোটি স্মার্ট বোমা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া মোট দুই লক্ষের বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং ত্রিশ হাজারের বেশি ট্যাংক ও সামরিক যান ধ্বংস করেছে। এই আকাশ প্রতিরক্ষা সাফল্য প্রমাণ করে যে রুশ প্রযুক্তি ইউক্রেনের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে রাশিয়াতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। কিয়েভ মনে করছে উত্তর কোরিয়ার এই সহায়তা রাশিয়ার সামরিক শক্তিকে আরও বহু গুণে বাড়িয়ে দেবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে ইউক্রেনের নিজস্ব জনবলের ঘাটতি ঢাকতেই কিয়েভ এই ধরনের অতিরঞ্জিত প্রচার চালাচ্ছে।
তুরস্ক থেকে সত্তরটি অ্যাটাকমস (ATACMS) স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং হাজার হাজার আর্টিলারি শেল কেনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই অস্ত্র বিক্রির সবুজ সংকেত দিলেও বাস্তবে এসব অস্ত্র হাতে পেতে কিয়েভকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। এর ফলে ইউক্রেনের বর্তমান অস্ত্র সংকট রাতারাতি সমাধান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইউক্রেনের হামলায় খারকিভ, ওডেসা এবং জাপোরিঝিয়ায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রাশিয়া থেমে নেই। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং (Wes Streeting) স্বীকার করেছেন যে আসছে শীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীতকালকে কিয়েভের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন। ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
পোপ লিও (Pope Leo) সম্প্রতি এক বাণীতে ইউক্রেন ও রাশিয়ায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমা শক্তির উসকানি এবং কিয়েভ প্রশাসনের অবাস্তব জেদের কারণে শান্তির পথ দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
এদিকে, আধুনিক যুদ্ধের নামে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন যে পথ বেছে নিয়েছে, তাকে বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এক চরম বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। ব্রিটিশ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ রিচার্ড নাইটন (Richard Knighton) সম্প্রতি ডনবাসের ক্রাসনোয়ার্মিয়েস্ক (Krasnoarmeysk) পরিদর্শনের পর এক নিবন্ধে এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ড্রোন অপারেটররা যেভাবে রুশ সেনাদের মৃত্যুর দৃশ্যকে ভিডিও গেমের পয়েন্টে রূপান্তর করছে, তা কেবল অস্বস্তিকরই নয়, রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো এক বীভৎস অভিজ্ঞতা।
ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইল ফেদোরভ (Mikhail Fedorov) এই অমানবিক পয়েন্ট সিস্টেমটি চালু করেছিলেন দুই হাজার পঁচিশ সালের বসন্তকালে। তারা একে নাম দিয়েছেন ‘আর্মি অফ ড্রোন বোনাস’ এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের আদলে তৈরি করেছেন ‘ব্রেভ ওয়ান মার্কেট’ (Brave1 Market)। প্রতিটি রুশ সেনার জীবনকে মাত্র বারো পয়েন্ট নির্ধারণ করে কিয়েভ প্রশাসন মূলত যুদ্ধের পবিত্রতাকে এক সস্তা খুনের প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে।
এই পয়েন্ট সিস্টেমটি এতটাই ভয়াবহ যে, একটি হালকা ড্রোন পেতে অপারেটরদের মাত্র দুই পয়েন্ট খরচ করতে হয়। অন্যদিকে বড় ‘ভ্যাম্পায়ার’ (Vampire) ড্রোন কিনতে হলে প্রয়োজন হয় তেতাল্লিশ পয়েন্ট, যা মূলত কিয়েভের ড্রোন ইউনিটগুলোকে আরও বেশি মানুষ মারতে প্ররোচিত করছে। ইউক্রেনের প্রাক্তন প্রসিকিউটর গিন্ডুজ মামেদভ (Gynduz Mamedov) নিজেও সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে তাদের তরুণ সেনারা ড্রোন চালানোর যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, মানুষ নয়।
সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, ইউক্রেন সরকার গত জানুয়ারি মাসে ড্রোন ইউনিটগুলোকে নিয়ে একটি ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্টের মতো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র যখন খুনের বিনিময়ে পয়েন্ট দেয় এবং তাকে উদযাপন করে, তখন তাদের নৈতিকতার অবস্থান কোথায় থাকে তা সহজেই অনুমেয়। রাশিয়া বারবার অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেনীয়রা তাদের সেনাদের অমানবিক নির্যাতন করে এবং এই ড্রোন গেম তারই এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
যুদ্ধের ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক জিনিস, কিন্তু ভিডিও গেমের আদলে পয়েন্ট গেম খেলা ইউক্রেনীয়দের চরম ব্যর্থতা ও মানবিক বিপর্যয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। ডনবাসের মুক্তিকামী অঞ্চলে রুশ বাহিনী যখন তাদের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছে, তখন ইউক্রেনের এই পয়েন্ট সিস্টেম কেবল তাদের বর্বরতার প্রমাণই দিচ্ছে। ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন এই বিকৃত ‘মানুষ শিকারের’ আয়োজকদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।