যুক্তরাজ্য এবারের গ্রীষ্মে পঞ্চম তাপদাহের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ইংল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্রিটিশ আবহাওয়া সংস্থা। এর আগে, চলতি বছরেই যুক্তরাজ্যে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দিনে, যা ১৯৯৫ সালের ৩৪ দিনের আগের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার কেন্টের ফ্রিটেন্ডেন অঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে চলতি বছরের তাপমাত্রার রেকর্ডটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও পরবর্তী দিনগুলিতে তা আবার বাড়তে শুরু করবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ব অ্যাঙ্গলিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
ব্রিটিশ কৃষিতে বিপর্যয়কর প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ব্রিটিশ কৃষি খাতে চরম সংকট তৈরি করেছে। ইংলিশ কৃষকরা ইতোমধ্যেই আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই মাসের সম্মুখীন হয়েছেন। পূর্ব ইংল্যান্ডের সাফোকের কৃষক জন পসি জানিয়েছেন, তাঁর খামারে ওটস, গম ও ভেচ জাতীয় ফসলের উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তিনি বলেন, "হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে খরা যেন শেষই হচ্ছে না।"
ফসলের উৎপাদন হ্রাসের ফলে যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়া-সম্পর্কিত নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন ব্রিটিশ কৃষকরা।
কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাজ্য তার অন্যতম উদাহরণ। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনেও গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রার রেকর্ড ক্রমশ ভাঙছে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ছিল দেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম দিন। এবারের খরা কেবল ফসলেরই ক্ষতি করছে না, বরং খাদ্য আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কাও তৈরি করছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ টিমোথি বেন্টন মনে করেন, কম নিবিড় চাষাবাদ এবং আরও বৈচিত্র্যময় কৃষি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বিদেশি ফল কিংবা সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "জলবায়ুর প্রভাব আরও তীব্র হবে এবং খাদ্য ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা এমন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছি না, যা বড় সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।"
শতাব্দীপ্রাচীন কৃষি ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এখন এক বড় মোড়ে দাঁড়িয়ে। চাষিরা নতুন ফসল ও পদ্ধতি গ্রহণের চেষ্টা করলেও, সরকারি সহায়তার অভাব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাবে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। জৈব চাষি পসি ইতিমধ্যেই খরা সহনশীল ফাভা বিন ও ছোলা চাষ শুরু করেছেন এবং একই জমিতে দুই ধরনের ফসল চাষ করে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।