এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৫, ১১:০৬ পিএম

ইরানে এক নারীর আবির্ভাব ঘটে নিখুঁত ইসলামি রূপে—মাথায় হিজাব, হাতে কোরআন, মুখে ইরানি বিপ্লব ও আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রশংসা। তাঁর লেখালেখি পর্যন্ত ঠাঁই পেয়েছিল খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। কিন্তু ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি—এই নারী, ক্যাথরিন পেরেজ সকদাম, আসলে ছিলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি ভয়ংকর অস্ত্র।
ব্রিটিশ-ফরাসি বংশোদ্ভূত ক্যাথরিন নিজেকে শিয়াপন্থী মুসলিম হিসেবে উপস্থাপন করেন। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইরানে বিভিন্ন সময়ে প্রবেশ করেন সাংবাদিক ও গবেষকের ছদ্মবেশে। তিনি এমনভাবে মিশে যান দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজাতদের মধ্যে যে, এমনকি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল, ইরানের নারী সমাজের প্রভাবশালী স্তরে তার প্রবেশ। সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন গভীর সম্পর্ক। আড্ডা ও ঘনিষ্ঠতার আড়ালে সংগ্রহ করতেন স্পর্শকাতর তথ্য—স্বামীদের গন্তব্য, কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়। ক্যাথরিন এসব কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করে পাঠাতেন তার অপারেটিভদের কাছে।
ইরানি গোয়েন্দারা সন্দেহ করলে তিনি ২০২১ সালের শেষ দিকে ইরান ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু তার রেখে যাওয়া তথ্যই ইরান মনে করে বহু পরমাণু বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তা হত্যার পেছনের প্রধান সূত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি গুপ্তচরের গল্প নয়; বরং এটি নারীত্ব, ধর্ম ও বিশ্বাসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে ফেলার ভয়াবহ নজির। আজও সেই তথ্যভাণ্ডার ইসরায়েলের বহু অভিযানের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।