ঢাকা, সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইরানের প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের সম্মান ও ঐক্যের বার্তা: “ইরানি সংস্কৃতি ছাড়া বাঁচতে পারি না


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৬ জুলাই, ২০২৫, ১০:০৭ পিএম

ইরানের প্রতি ইহুদি সম্প্রদায়ের সম্মান ও ঐক্যের বার্তা: “ইরানি সংস্কৃতি ছাড়া বাঁচতে পারি না

ইরানের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, দেশটির পার্লামেন্টের সাবেক ইহুদি প্রতিনিধি সিয়ামক মেরহে সাদ্দেগ বলেছেন, "আমরা ইরানি সংস্কৃতি ছাড়া বাঁচতে পারি না।" সম্প্রতি মিডল ইস্ট মনিটর ও পার্সটুডে-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানি সমাজের বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরা হয়, যা পশ্চিমা প্রচারণা থেকে একেবারেই আলাদা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ যেখানে বহু জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করে। ইরানের সংবিধান শিয়া মাজহাবকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, ইহুদি, খ্রিষ্টান, জরথুস্ট্রীয়ান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীরা তাদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে।

ইরানে ইহুদি সম্প্রদায়ের বহু প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। প্রায় ২,৭০০ বছর ধরে তারা দেশটিতে বাস করছে এবং নিজেদেরকে ‘ইরানি ইহুদি’ হিসেবে পরিচিত করে গর্ব অনুভব করে। সিনাগগ, ইহুদি বিদ্যালয় ও উপাসনালয়গুলো রাষ্ট্রের পূর্ণ সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এমনকি ইহুদিরা ইরানি পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বও করে।

পশ্চিমা মিডিয়া অনেক সময় ইরানকে ‘দমনমূলক রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরলেও, বাস্তবে দেশটিতে সংস্কারপন্থী, রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থীদের সমন্বয়ে একটি বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বিদ্যমান। নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এবং জনমতের প্রকাশ সেখানে নিয়মিত ঘটে।

ইরানের তরুণ জনগোষ্ঠী বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং ডিজিটাল অগ্রগতিতে সক্রিয়। নারীরা শিক্ষা, শিল্প, ক্রীড়া ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ইরানি সমাজ একটি উন্মুক্ত, সংস্কৃতিমনস্ক এবং গভীর ঐতিহ্যবাহী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তার স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে।

এই কারণেই ইরানের ইহুদি নেতারা বারবার বলেছেন—"ইরানে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা উপভোগ করি, এখানকার মানুষ আমাদের শত্রু নয়, বরং আমাদেরই অংশ।