এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢোকার চেষ্টা করেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ইতালির নিরাপত্তা বাহিনী। তবে তাদের ইতালিতে না রেখে পাঠানো হয় পাশের দেশ আলবেনিয়ায়।
আলবেনিয়ায় তাদের রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করে তা বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা ইতালির আদালতে মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।
ইইউ আদালত শুক্রবার রায় দেন যে, ইতালি কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আলবেনিয়ার বন্দিশিবিরে পাঠাতে পারবে না। আদালতের মতে, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
এই রায়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, ‘আবারও বিচারব্যবস্থা তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে।’ তিনি রায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।
মেলোনি বলেন, এই রায় অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং জাতীয় সীমান্ত রক্ষার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার মতে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
২০২৩ সালে ইতালি ও আলবেনিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় আলবেনিয়ায় বন্দিশিবির তৈরি করে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রাখা হয়, যারা ইতালিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চান।
২০২৪ সালে ইতালি তাদের ‘নিরাপদ দেশের’ তালিকায় বাংলাদেশ, মিসরসহ কয়েকটি দেশকে যুক্ত করে। ফলে ওই দেশগুলোর নাগরিকেরা অবৈধভাবে এলে তাদের আলবেনিয়ায় পাঠানো হয়।
ইইউর আদালত বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনায় প্রশ্ন তোলে। আদালতের মতে, কোনো দেশকে নিরাপদ ঘোষণা করতে হলে উপযুক্ত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং তথ্য-প্রমাণ থাকতে হবে।
আদালতের রায়ের ফলে ইতালির এই অভিবাসন নীতি বড় বাধার মুখে পড়তে পারে। একইসঙ্গে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়েও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।