এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের কিছু ব্যক্তি কারখানা স্থাপন করেছেন শুধুমাত্র বিদেশে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে। তবে ভালো মালিকও আছেন, যাদের কারণে রফতানি বেড়েছে।
শনিবার সকালে রাজশাহীতে শ্রম অধিদফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ করেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
তিনি বলেন, দেশের কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য সরকার দায়ী নয়। বরং কিছু মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক কারখানা এখনও সচল আছে। ৭-৮ শতাংশ রফতানি প্রবৃদ্ধি তার প্রমাণ। ভালো মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দেন, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং কখনও ডিফল্ট হননি।
শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকরা চাইলে আন্দোলন করতে পারেন। এটা তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ চাইলে নিজের ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় নামতেই পারে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো ধরনের নির্বাচন ছাড়াই অনেকে বছরের পর বছর একই পদে বহাল থাকেন, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। নেতৃত্ব নির্ধারণে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা উচিত।
চা বাগানের নারী শ্রমিকদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। বলেন, এসব এলাকায় শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে নারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। ক্যানসারের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে, যা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক এবং রাজশাহী বিভাগের উপমহাপরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।