এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ এএম

গাজা সংঘাতে যুদ্ধবিরতির সব আলোচনা এখন প্রায় অচল। হামাস সম্প্রতি ইসরায়েলের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না।
হামাসের এক বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, "জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাব।" এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে যখন কাতার, মিশর ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলের শর্ত ছিল, হামাসকে সব বন্দী মুক্তি দিতে হবে এবং অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু হামাস এতে রাজি হয়নি। তাদের দাবি, ইসরায়েলকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টি দিতে হবে। হামাসের এই অনড় অবস্থানের ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই গাজার কিছু অংশ দখলের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামাসের সশস্ত্র উপস্থিতি পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা অপারেশন চালিয়ে যাবে। এই অবস্থায় সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইতিমধ্যে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। খাদ্য, পানীয় জল ও ওষুধের মারাত্মক সংকটে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ বেশ কিছু দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করছে। তবে আমেরিকা এখনও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল কিছুটা নমনীয় হয়েছে। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে স্থায়ী শান্তি আলোচনা এখনও দূরে থাকায় সংকটের সমাধান কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই অনমনীয়তার কারণে গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও সংঘাতের অবসান কবে হবে, তা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।