এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:০৮ পিএম

বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতসহ কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বজায় রাখতে "নব্য ঔপনিবেশিক" নীতি গ্রহণ করেছে। তারা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করে অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। মস্কোর এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
রুশ বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি।" তিনি আরও যোগ করেন, শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়া ও তার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারবে না।
এদিকে, ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত শক্তির বাজার স্থিতিশীল রাখতে নেওয়া হয়েছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতের উপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কিনছে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। রাশিয়া ও ভারত উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক চাপ বলেও দেখা হচ্ছে। অনেক দেশই এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনসহ অন্যান্য শক্তি এই সুযোগে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।
১. যুক্তরাষ্ট্র কেন ভারতের উপর শুল্ক বাড়াচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কিনছে, যা তাদের নীতির বিরোধী।
২. রাশিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিকে "নব্য ঔপনিবেশিকতা" বলে অভিহিত করেছে এবং এটিকে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
৩. ভারত কী বলেছে এই বিষয়ে?
ভারত বলেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা শক্তির বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ছিল এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রেরই সমর্থন ছিল।
৪. নতুন শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন শুল্ক ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
৫. এই সংঘাতের বৈশ্বিক প্রভাব কী?
এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
৬. রাশিয়া ও ভারত কি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেবে?
এখন পর্যন্ত উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে উপেক্ষা করেছে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার ইচ্ছা দেখায়নি।
৭. এই সংকটের সমাধান কী হতে পারে?
কূটনৈতিক আলোচনা বা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে।
৮. যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে অন্যান্য দেশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?
অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সমালোচনা করেছে এবং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করছে বলে মত দিয়েছে।
৯. এই সংঘাত কি যুদ্ধের দিকে যেতে পারে?
এখন পর্যন্ত তা বলা যাচ্ছে না, তবে অর্থনৈতিক সংঘাত বাড়লে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।