আব্দুল্লাহ সাহেল প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে বিতর্কে পড়েছেন ট্রাম্প। এবার তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হলো—চীনও তো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে, তাহলে শুধু ভারতকেই কেন ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে?
এই প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু চুপ থাকেননি। বরং হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দিলেন—"এটাই তো শুরু, আরও শুল্ক আসছে।"
গত বুধবার, ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে, কারণ ভারত এখনো রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। ফলে সব মিলিয়ে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক বসছে ভারতীয় পণ্যের উপর।
ট্রাম্প এও বলেন,
"ভারত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রুশ তেল কিনছে। তাই তাদের উপর আরও শুল্ক চাপানো দরকার।"
এই নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে নতুন শুল্কহার।
এ ঘোষণার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এক বিবৃতিতে তারা বলে—
"বাজারের পরিস্থিতি আর দেশের ১৪০ কোটি মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আমরা জ্বালানি আমদানি করি। শুধু ভারতকে টার্গেট করা অন্যায্য ও দুর্ভাগ্যজনক।"
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, অনেক দেশই জাতীয় স্বার্থে রুশ তেল কিনছে, কিন্তু শাস্তি যেন কেবল ভারতই পাচ্ছে।
ট্রাম্পের এই একতরফা শুল্ক আরোপের ঘটনায় হোয়াইট হাউসেও উঠেছে প্রশ্ন। এক সাংবাদিক সরাসরি জানতে চান—
"চীনকেও কি একই শাস্তি দেবেন?"
ট্রাম্পের জবাব—
"সময় লাগবে। কয়েক ঘণ্টা হয়েছে মাত্র। আরও অনেক কিছু ঘটবে। শুল্ক তো থাকছেই, নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প হয়তো খুব শিগগিরই চীনসহ আরও কয়েকটি দেশকে শুল্কের আওতায় আনবেন, যেগুলো রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে।
তবে ভারতের মতো ‘বন্ধু দেশের’ সঙ্গে এই শুল্ক যুদ্ধ শুরু করে নিজ দেশের রাজনৈতিক মহলেই চাপের মুখে ট্রাম্প। কারণ অনেকের মতে,
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে চীনকে ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে আমেরিকার জন্য।