ঢাকা, শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

চিনের ঘাড়ে চেপে চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তান! নিজেদের মহাকাশযাত্রাতেও ‘মেড ইন চায়না’ ভরসা ইসলামাবাদের


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ০৭ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০৮ পিএম

চিনের ঘাড়ে চেপে চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তান! নিজেদের মহাকাশযাত্রাতেও ‘মেড ইন চায়না’ ভরসা ইসলামাবাদের

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, দুর্দশায় পড়লে একটাই ভরসা— চিন! এবার সেই চিনের ঘাড়ে চেপে মহাকাশ জয় করতে চাইছে পাকিস্তান। ২০৩৫ সালে চাঁদে যাওয়ার বড় ঘোষণা করেছে ইসলামাবাদ, আর তার আগেই ২০২৬ সালে প্রথম পাক মহাকাশচারীকে পাঠাতে চায় চিনের স্পেস স্টেশনে।

কিন্তু বিষয়টা যতটা বড় ঘোষণা, ততটাই নির্ভরশীলতায় ভরা। কারণ, পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা SUPARCO (Space & Upper Atmosphere Research Commission) এখনও পর্যন্ত নিজের প্রযুক্তিতে একটাও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে পারেনি। যে কারণে সব দায়িত্ব পড়ছে চিনের ওপরেই।

চিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মহাকাশ অভিযানের রূপরেখা তৈরি করবে SUPARCO, কিন্তু প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও উৎক্ষেপণের পুরো দায়িত্বই নিচ্ছে চিন। তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের জন্য এটা একটি স্বপ্নপূরণের পথ।”

অর্থাৎ পুরো ব্যাপারটাই চিনা প্রযুক্তির হাত ধরে। নিজেদের তৈরি কিছুই নেই, নেই উপযুক্ত মহাকাশ অবকাঠামোও।

এই প্রথম নয়— পাকিস্তান এর আগেও তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। সবক’টিতেই ছিল চিনের সহায়তা। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

এদিকে, একই সময় ভারত এগিয়ে চলেছে আত্মনির্ভর ইসরোর হাত ধরে। দেশের বিজ্ঞানীরা একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করছে। ভারত যখন চাঁদের বুকে অবতরণ করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগায়, তখন পাকিস্তান ছিল নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে ডুবন্ত।

এ নিয়ে পাকিস্তানের এক সাংসদ সৈয়দ মোস্তফা কামাল দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন, “যখন ভারত চাঁদে পৌঁছাল, তখনই করাচিতে একটি শিশু আবর্জনার স্তূপে পড়ে মারা গেল। প্রতি তিনদিনে এমনই মৃত্যুর খবর আসে।”

তাহলে প্রশ্ন উঠছে— যেখানে দেশের মানুষ দুই বেলা খাবার জোটাতে পারে না, সেখানে বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ মিশনের প্রয়োজন কতটা যুক্তিযুক্ত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এই মুহূর্তে এতটাই ঋণের চাপে রয়েছে যে নিজেরা তো নয়ই, এমনকি চিন ছাড়া এক পা-ও এগোতে পারবে না।

তবুও চাঁদের স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। তবে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি ‘মেড ইন চায়না’।