এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ১২:০৮ এএম
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী—এমনই দাবি করলেন দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, “এই বছরেই ইনশা আল্লাহ তারেক রহমান দেশে আসবেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনের তফসিলও নভেম্বরেই ঘোষণা হওয়ার কথা। তাই উনাকে খুব দ্রুতই আমরা পাবো।”
হুমায়ুন কবির আরও জানান, “তারেক রহমান শুধু দেশে ফিরবেন না, প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব নেবেন। দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সবার মধ্যেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। উনার সঙ্গেও মতবিনিময়ের আগ্রহ বেড়েছে সকলের।”
তিনি বলেন, “যেহেতু উনি একটি বড় দলের নেতা, সিকিউরিটি নিয়ে কিছু ভাবনা থাকতেই পারে। তবে এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর সময়ও খুব বেশি নেই—চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই তিনি ফিরবেন।”
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির স্পষ্ট বলেন, “তারেক রহমান দেশে ফিরে একাধিক আসনে নির্বাচন করবেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। সরকার গঠন হলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী।”
আন্তর্জাতিক মহলেও তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে বলে দাবি করেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারেক রহমানের ভাবনা ও তাঁর সম্ভাব্য নেতৃত্ব। বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কীভাবে দেশ চালাবেন, তা জানার আগ্রহ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলেও।”
সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাক্ষাৎটি অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। সেখান থেকেই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করছেন।
দলের নেতাকর্মীদের মতে, এক-এগারো পর্ব এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগেই এখন খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান। ফলে তাঁর দেশে ফেরার পথ অনেকটাই সহজ হয়েছে।
নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা কেবল রাজনৈতিক ফেরা নয়, এটি বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবেও কাজ করবে। সামনে নির্বাচন, তাই তাঁর উপস্থিতি দলের সাংগঠনিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।