এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ০১:০৮ এএম

ফের মার্কিন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। চলতি আগস্ট মাসের শেষেই তিনি পা রাখতে চলেছেন আমেরিকার মাটিতে। এর আগেও মাত্র দু’মাস আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন। ফলে পরপর দুটি সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
এই সফরের পটভূমি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি শুল্ক বসিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করায়, ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্য আমেরিকায় রপ্তানির ক্ষেত্রে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে মুনিরের হঠাৎ মার্কিন সফর নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে।
জানা গিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার বিদায় সংবর্ধনায় অংশ নিতেই মুনিরের এই সফর। চলতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন কুরিল্লা। তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ দমনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে বারবার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, “বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ রুখতে পাকিস্তান আমাদের প্রয়োজন।”
যদিও ভারত সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে আন্তর্জাতিক স্তরে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাঝেই কুরিল্লার এমন মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে কিছুটা চাপে ফেলে দেয়। তাই তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠানে মুনিরের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এর আগেও কুরিল্লা আইএস-খোরাসান জঙ্গিদের ধরতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাক সেনারা পাঁচ জঙ্গিকে আটক করে। এই সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ পাকিস্তান তাঁকে ‘নিশান-এ-ইমতিয়াজ়’ সম্মানে ভূষিত করে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আমেরিকার দীর্ঘদিনের কৌশলই হল ভারত ও পাকিস্তান— উভয় দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা। কুরিল্লার ভূমিকায় সেটাই স্পষ্ট।
গত জুনেও আমেরিকায় গিয়েছিলেন মুনির। সে সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। তখনও কোনো সরকারি প্রতিনিধি না থাকলেও প্রেসিডেন্টের তরফে এমন আন্তরিক স্বাগত নজর কাড়ে। মুনির তখনই ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা পরে পাক সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড়সড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেই অনুযায়ী, পাকিস্তানে একটি ‘বিশাল’ তৈলভান্ডার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে দুই দেশ। যদিও এই তৈলভান্ডারের বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়। একই দিনে পাকিস্তানের উপর প্রযুক্ত পারস্পরিক শুল্ক হার কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম।
এই সফর নিছক একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর আড়ালে রয়েছে বড় কোনো কূটনৈতিক চাল— সে প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।