ঢাকা, রবিবার, মে ৩১, ২০২৬ | ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক কি এবার সত্যিই হতে যাচ্ছে? যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় উত্তপ্ত বিশ্বরাজনীতি!


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ এএম

পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক কি এবার সত্যিই হতে যাচ্ছে? যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় উত্তপ্ত বিশ্বরাজনীতি!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে এবার বড় কূটনৈতিক মোড় নিতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একমঞ্চে বসে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন— এমনটাই জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা ‘তাস’। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই সম্ভাবনার কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

গত বুধবার মস্কো সফরে যান ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। সেখানে তিনি পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরি উশাকোভও। তিনি জানান, বৈঠকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই পুতিন-ট্রাম্প মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উশাকোভ আরও জানান, শুধু পুতিন নন— ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। এটি বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। এমনকি জানুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এখনও সেই বৈঠক হয়নি। বরং, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসে জ়েলেনস্কির সঙ্গে তিনি পৃথক দুটি বৈঠক করলেও পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়নি।

ট্রাম্প এর আগে যুদ্ধবিরতির জন্য রাশিয়াকে একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ১৪ জুলাই তিনি মস্কোকে ৫০ দিনের সময় দিয়েছিলেন কিয়েভের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে। পরে আবার ২৮ জুলাই আরও ১০-১২ দিনের আলটিমেটাম দেন ট্রাম্প। রাশিয়া এই সময়সীমা মানতে অস্বীকৃতি জানালে, ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেন, “ভারত এবং রাশিয়া চাইলে তাদের মৃত অর্থনীতিকে একসঙ্গে ডুবিয়ে দিতে পারে।”

এই মন্তব্যের পরেই রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাদের মৃত বলা হচ্ছে, তাদের ‘ডেড হ্যান্ড’ সিস্টেমকে অবহেলা করা বোকামি হবে।”

‘ডেড হ্যান্ড’ আসলে সোভিয়েত আমলে তৈরি একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক প্রতিশোধ ব্যবস্থা, যা শত্রুপক্ষের আক্রমণে নেতৃত্ব ধ্বংস হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম।

এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প শুক্রবার রাশিয়ার জলসীমার কাছে দু’টি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন পাঠানোর ঘোষণা দেন। তাঁর মতে, মেদভেদেভের বক্তব্য ছিল একেবারেই উসকানিমূলক, তাই এটাই ছিল যথাযথ জবাব।

বর্তমানে গোটা দুনিয়ার নজর এখন ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের দিকে। বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে— সত্যিই কি এই বৈঠক যুদ্ধ বন্ধের পথে বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে?