এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

দুবাই যেন এখন কোটিপতিদের স্বর্গরাজ্য। বিশ্বের নানা প্রান্তের ধনীরা একে একে পাড়ি জমাচ্ছেন মরুভূমির এই বিলাসবহুল শহরে। আয়কর শূন্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আর বিলাসী জীবনযাপনের অফুরন্ত সুযোগ—সব মিলিয়ে কোটিপতিদের কাছে দুবাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো কর নেই। যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের শহরগুলোতে বিলাসবহুল জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে, সেখানে দুবাইতে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে সেই সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের ধনীদের আকৃষ্ট করলেও এখন ইউরোপ-আমেরিকার কোটিপতিরাও ভিড় করছেন দুবাইয়ে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর রেকর্ড ৯,৮০০ কোটিপতি আমিরাতে চলে আসবেন—যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। শুধু বসবাস নয়, অনেকেই তাঁদের ব্যবসা ও অফিসও এখানে স্থানান্তর করছেন। বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করছেন প্রায় ৮১ হাজার ২০০ কোটিপতি ও ২০ জন শতকোটিপতি।
কেন এত ধনী আসছেন দুবাইয়ে?
কঠোর নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অপরাধের কম হার, সহজ ব্যবসার সুযোগ এবং বিলাসী জীবনধারা—এসবই ধনীদের আকর্ষণ করছে। তার ওপর আছে ১০ বছরের ‘গোল্ডেন ভিসা’, যা প্রবাসী ধনীদের স্থায়ী আবাসনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
স্কাইবাউন্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান মাইক কোডি বলেন, তাঁর অনেক গ্রাহক মনে করেন, নিজ দেশে ধনী হওয়া এখন যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর আরোপ, নজরদারি, সুবিধা কমানো—সব মিলিয়ে অনেকে ইউরোপ-আমেরিকা ছেড়ে আসছেন দুবাইয়ে।
তিনি বলেন, “লন্ডনে আমার গ্রাহকেরা ফিসফিসিয়ে তাঁদের সম্পদের কথা বলেন। কিন্তু দুবাইয়ে তাঁরা খোলামেলা জীবনযাপন করতে পারেন।”
বিলাসের শহর দুবাই
দুবাই শুধু কোটিপতিদের ব্যবসার নিরাপদ আশ্রয় নয়, বরং বিলাসী জীবনধারারও কেন্দ্র। বিশাল শপিং মল, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা, কৃত্রিম দ্বীপ ‘দ্য পাম’—সবকিছুই কোটিপতিদের স্বপ্নের ঠিকানা বানিয়েছে শহরটিকে। ফলে এটি বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারদেরও প্রধান গন্তব্য।
ব্রিটেন থেকে সবচেয়ে বেশি কোটিপতির স্রোত
বর্তমানে ধনী দেশ ছাড়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ব্রিটেন। কঠোর করনীতি, উত্তরাধিকার আইন, আর্থিক বৈষম্য নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে শুধু এ বছরই দেশ ছাড়তে যাচ্ছেন রেকর্ড ১৬ হাজার ৫০০ কোটিপতি। নরওয়ের শিপিং টাইকুন জন ফ্রেডরিকসেনও এর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেছেন, “ব্রিটেন নরকে পরিণত হয়েছে।”
এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পরিবার নিয়ে অনেক উদ্যোক্তা চলে যাচ্ছেন দুবাইয়ে। কারণ একই টাকায় আমিরাতে তাঁদের জীবনযাত্রা আরও উন্নত হচ্ছে।
দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজারের উত্থান
ধনীদের আগমনের কারণে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজার এখন রেকর্ড ভাঙছে। ২০২৩ সালে শহরে বিক্রি হয়েছে ৪৩৫টি ১ কোটি ডলার বা তার বেশি মূল্যের বাড়ি—যা নিউইয়র্ক ও লন্ডনের মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমা শহরের তুলনায় দুবাইয়ে বিলাসবহুল সম্পত্তি তুলনামূলক সস্তা।
নাইট ফ্রাঙ্কের ফয়সাল দুররানি মজা করে বলেন, “মোনাকো আর সুইজারল্যান্ডে যে দামে একটা অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যায়, দুবাইতে সেই দামে পুরো একটা ভবন কেনা সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, করমুক্তির স্বর্গ আর বিলাসের রাজধানী হিসেবে দুবাই এখন কোটিপতিদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।