এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এবার থেকে শহীদ পরিবারকে দেওয়া এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতা সমান তিনভাগে ভাগ হবে— স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের মধ্যে। এ সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকারি সহায়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। কে কত টাকা পাবেন, সেটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান আর বাবা-মায়ের মধ্যে অশান্তি দেখা দিত। এজন্য অনেক সময় সহায়তা পৌঁছাতেও দেরি হতো। এসব সমস্যার সমাধানেই সরকার জারি করেছে— ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিধিমালা, ২০২৫’।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগে ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন মেনে টাকা ভাগ করা হলেও অনেক পরিবার সেটি মেনে নিতে চাইছিল না। কারণ অনুদান বা ভাতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ নয়। তাই এখন থেকে স্পষ্ট নিয়মে বণ্টন হবে।
সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ আর আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য দেওয়া হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে ১০ লাখ আগের অর্থবছরে এবং বাকি ২০ লাখ এবার দেওয়া হবে।
পাশাপাশি মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে পরিবারকে।
এ পর্যন্ত গেজেটে নাম প্রকাশিত হয়েছে ৮৪৪ জন শহীদের, যদিও পরবর্তীতে আটজনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে—
স্বামী বা স্ত্রী পাবেন অনুদানের এক-তৃতীয়াংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলে সমানভাবে ভাগ হবে।
সন্তানরা পাবেন এক-তৃতীয়াংশ। একাধিক সন্তান হলে সমানভাবে ভাগ হবে।
বাবা-মা পাবেন এক-তৃতীয়াংশ। যদি বাবা বা মা না থাকেন, অন্যজন পুরো অংশটি পাবেন।
কিছু বিশেষ পরিস্থিতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—
স্বামী বা স্ত্রী না থাকলে তাদের অংশ সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে ভাগ হবে।
সন্তান না থাকলে স্বামী/স্ত্রী ও বাবা-মা সমান ভাগে ভাগ করবেন।
বাবা-মা না থাকলে তাদের অংশ যাবে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে।
অবিবাহিত শহীদ হলে সহায়তার পুরো টাকা বাবা-মার মধ্যে সমান ভাগে যাবে।
ভাতা পাওয়ার পর যদি কোনো সদস্য মারা যান, তবে তার অংশ বন্ধ হয়ে যাবে।
শহীদের স্ত্রী পুনর্বিবাহ করলে সেখান থেকেই তার ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।
জুলাই যোদ্ধা মারা গেলে তার ভাতাও বন্ধ হবে, তবে এককালীন সহায়তা পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে তিনভাগে ভাগ হবে।
সব সরকারি হাসপাতাল ও নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালে আহত জুলাই যোদ্ধারা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। এজন্য কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেওয়া হেলথ কার্ড দেখাতে হবে।
পরিবারের স্বনির্ভরতার জন্য সরকার নানা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। যেমন— আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল সার্ভিসিং, গাড়ি মেরামত, কৃষি, মাছচাষ, পোল্ট্রি, গার্মেন্টস, বিউটিফিকেশন, ফুড অ্যান্ড হসপিটালিটি ইত্যাদি। এছাড়া সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে।
কল্যাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দেখভালের জন্য থাকবে তিনটি কমিটি—
কেন্দ্রীয় কমিটি (অধিষ্ঠান করবেন মন্ত্রী/উপদেষ্টা)
জেলা কমিটি (ডিসি সভাপতি)
উপজেলা কমিটি (ইউএনও সভাপতি)
টাকা বা ভাতা নিয়ে শহীদ পরিবারের মধ্যে কোনো বিরোধ হলে গঠন করা হবে সালিশ বোর্ড। সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে আপিল করা যাবে, আর তার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
যদি কোনো জুলাই যোদ্ধা আহত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, তবে তাকেও ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তার পরিবার পাবে সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা, তবে আগে পাওয়া সহায়তা কেটে নেওয়া হবে।