এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:০৯ এএম

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬২২ জনে। আহত হয়েছেন আরও এক হাজারেরও বেশি মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সোমবার (স্থানীয় সময়) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আঘাত হানে। উৎপত্তিস্থল ছিল জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়ে ৬.০।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুনার প্রদেশ। নূর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কারণ ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা রয়েছেন বহু মানুষ। ইতোমধ্যে শতাধিক আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তালেবান সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডজনখানেক গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে কিছু দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুধু আকাশপথেই পৌঁছানো সম্ভব। ভূমিধস ও বন্যায় অনেক সড়কপথ ভেঙে পড়েছে। নাঙ্গারহার বিমানবন্দরে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারে আহতদের নিয়ে আসছে তালেবান সরকার।
ভূমিকম্পের আঘাত শুধু আফগানিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাবুল থেকে শুরু করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পর্যন্ত এর কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা রাতভর বহুবার আফটারশক টের পেয়েছেন।
নাঙ্গারহার ও কুনার প্রদেশে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। কুনারে ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে উদ্ধার তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নাঙ্গারহারে স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তদানের জন্য হাসপাতালে ভিড় করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, শত শত মানুষ এখনো ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
কুনারের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী পোলাদ নূরি বলেন, “আমি জীবনে এত ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখিনি। রাত বারোটার দিকে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কমপক্ষে ১৩ বার আফটারশক অনুভব করেছি। চারপাশের মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে।”
সরকারি কর্মকর্তা ও তালেবান প্রতিনিধিরা একবাক্যে বলছেন—এটি সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি তারা জরুরি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে।
today