এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৯ পিএম

ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি যুদ্ধজাহাজ এবং ১,২০০ মিসাইল মোতায়েন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেন, এ সামরিক প্রস্তুতির আসল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার সরকারকে উৎখাত করা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জানাচ্ছে, এই নৌবহর মাদক চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মাদুরো অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন মাদকবিরোধী অভিযানকে অজুহাত বানিয়ে তার সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) কারাকাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদুরো বলেন, “সামরিক হুমকি দেখিয়ে তারা সরকার পরিবর্তন চাচ্ছে। ভেনেজুয়েলা গত ১০০ বছরে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখোমুখি। আটটি যুদ্ধজাহাজ, ১,২০০ মিসাইল এবং সাবমেরিন দিয়ে আমাদের দেশকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চল ও সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের আধাসামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরো মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মাদকবিরোধী সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন।
বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি এজিস গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস গ্র্যাভলি ও ইউএসএস জেসন ডানহাম—ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থান করছে। এছাড়া ইউএসএস স্যাম্পসন ডেস্ট্রয়ার এবং ইউএসএস লেক এরি ক্রুজারও ল্যাটিন আমেরিকার উপকূলে মোতায়েন আছে।
এএফপি জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং সেনা মোতায়েন বাড়ানো হতে পারে। চার হাজার নাবিক ও মার্কিন মেরিন নিয়ে নতুন যুদ্ধজাহাজও ওই এলাকায় যুক্ত হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে মাদুরোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠী ও মাদক চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছিল। তবে এসব অভিযোগের প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। গত আগস্টে ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, মাদক পাচারে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নিকোলাস মাদুরোকে ধরিয়ে দিলে ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।