এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম

ইরান ও ইসরায়েলের সংঘর্ষে ইরানের পাল্টা হামলা ইসরায়েলের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানে হামলার পর ইরান পুরোপুরি শক্তি দেখিয়ে কোনো ছাড় দেয়নি। এতে নড়েচড়ে বসেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এবং পিঠ বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাইতে হয়। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতিতেও পৌঁছাতে হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে বাঁচতে ইসরায়েলকে তাদের পিতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছুটে যাওয়ার ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১২ দিনের এই সংঘাতে ইসরায়েলের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার না করলেও ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটি কয়েক বিলিয়ন শেকেলের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ট্যাক্স অথরিটির মহাপরিচালক শাই আহারোনোভিচ বলেন, ক্ষতির পরিমাণ ‘কল্পনাতীত’।
ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি’-এর আওতায় তেলআবিবসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কিছু হামলা প্রতিহত করতে পেরেছে, তবুও বহু ভবন ধ্বংস এবং সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হলো ইরান ইসরায়েলের দুটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধের পর ট্যাক্স অথরিটির কাছে ৫৩,৫৯৯টি ক্ষতিপূরণের দাবি জমা পড়ে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সরাসরি ক্ষতি প্রায় ৪ বিলিয়ন নিউ ইসরায়েলি শেকেল, তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা ও অন্যান্য ক্ষতি মিলিয়ে এটি কয়েক বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
সামরিকভাবেও ইসরায়েলের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী গোপন অভিযানে মোসাদের দুই সদস্যকে আটক করেছে, এবং তাদের কাছ থেকে ২০০ কেজি বিস্ফোরক ও ২৩টি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শাই আহারোনোভিচ আরও জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, যা মোসাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। এছাড়া ইরানের পাল্টা হামলার কারণে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে গেছে।